kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পাওনা পরিশোধে ছাড় চায় টেলকো অপারেটররা

কাজী হাফিজ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাওনা পরিশোধে ছাড় চায় টেলকো অপারেটররা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধে ছাড় এবং বিশেষ প্রণোদনা চায় টেলকো অপারেটররা। তাদের দাবি পূরণ হলে সরকারের রাজস্ব আয় বছরে কমপক্ষে ১৪৪ কোটি টাকা কমে যেতে পারে। চলতি অর্থবছরে কমতে পারে কমপক্ষে ২৫৮ কোটি টাকা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ২৪২তম সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব দাবি পূরণ হলে সরকারের রাজস্ব আয়ে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজস্ব ছাড় দেওয়ার   কোনো সুযোগ বিটিআরসির নেই। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা অপারেটরদের ওই দাবির বিষয়ে আমাদের মতামত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে জানিয়ে দিয়েছি।’

জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে বা আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের ফোরাম আইওএফের দাবি হলো—অপারেটরপ্রতি তাদের বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন ফি তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকার বদলে এক কোটি টাকায় নামিয়ে আনতে হবে এবং বিলম্বের মাসুল ছাড়াই এই ফি পরিশোধের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে হবে। রেভিনিউ শেয়ারিং ৪০ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করতে হবে। পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ বিদ্যমান সাড়ে সাত কোটি থেকে এক কোটি টাকায় নামিয়ে আনতে হবে। অপারেটরদের সব বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব ফি মওকুফ করতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার জন্য তাদের প্রণোদনা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইওএফ এসব দাবি পূরণে চিঠি দিলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিষয়টি সম্পর্কে   বিটিআরসিকে মতামত জানাতে বলে।

বিটিআরসি বলছে, প্রণোদনা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অন্য দাবিগুলোর বিষয়েও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে নেতিবাচক প্রভাবের কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। 

নিয়ন্ত্রক এই সংস্থার পক্ষ বলা হয়েছে, আইওএফের লাইসেন্স নবায়ন ফি ও রেভিনিউ শেয়ারিং কমানোর দাবি বাস্তবায়িত হলে এসব খাত থেকে সরকারের বার্ষিক আয় ১৪৪ কোটি টাকা কমে যাবে। আর সরকারের বকেয়ার ওপর বিলম্ব ফি কমালে আরো ১৪১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা কমবে।

আইওএফ ছাড়াও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার (আইএসপি), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি), নেশন ওয়াইড টেলিকমিউনিকেশনস ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটররাও রেভিনিউ শেয়ারিং কমানোসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, এ দাবি পূরণ হলে শুধু আইআইজি ও এনটিটিএন অপারেটরদের কাছে হারাতে হবে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আইআইজি অপারেটররা তাদের আয়ের ১০ শতাংশ হারে সরকারকে বছরে প্রায় ২৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে আসছে। এই রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের হার কমিয়ে ১ শতাংশ করা হলে সরকারের আয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা কমে মাত্র দুই কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াবে। আর এনটিটিএন অপারেটররা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আসছে তাদের আয়ের ৩ শতাংশ হারে বছরে ১৯ কোটি টাকা। রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের হার কমিয়ে ১ শতাংশ করা হলে সরকারের আয় কমে যাবে ১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, সভায় আইওএফের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক কল থেকে আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাঁচ বছর আগে বৈদেশিক কল থেকে সরকারের মাসে আয় ছিল ২০০ কোটি টাকার ওপরে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা নেমে আসে মাসে ১০০ কোটি টাকায়। পরের অর্থবছরে নেমে আসে মাসে ৭৫ কোটি টাকায়। গত ফেব্রুয়ারিতে  বিদেশ থেকে আসা কল টার্মিনেশন রেট কমিয়ে দেওয়ার পর এই আয় নেমে এসেছে মাসে গড়ে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। আইওএফের দাবি পূরণ হলে বৈদেশিক কল থেকে সরকারের মাসে আয় দাঁড়াবে সাড়ে সাত কোটি টাকার কাছাকাছি, যা পাঁচ বছর আগে ছিল এক দিনের আয়।

বিটিআরসির ওই সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জানানো হয় যে করোনার কারণে বিদেশ থেকে আসা কলের পরিমাণ কমেনি। গত জানুয়ারিতে বিদেশ থেকে আসা কলের পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ১২৭ মিনিট। ফেব্রুয়ারিতে আসে ৬৪ কোটি আট লাখ ৪০ হাজার ৬৭৬ মিনিট।  এরপর দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর মাস মার্চে আসে ৯৩ কোটি ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৯ মিনিট। এপ্রিলে আসে ৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৩ মিনিট। মে মাসে আসে ৭৯ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৭ মিনিট। জুন মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত আসে ৬২ কোটি দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯০৩ মিনিট।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা