kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সবিশেষ

ট্রামের কামরায় পাঠাগার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ট্রামের কামরায় পাঠাগার

দূষণহীন যান হিসেবে ট্রামের কোনো বিকল্প নেই। ট্রামের সফর অন্য গণপরিবহনের তুলনায় বেশি আরামদায়ক। তার পরও ট্রাম ধীরগতির যান, বাঁধা পথে চলে বলে যানজট বাড়ায়—এমন নানা কারণে ব্যস্ত নগরজীবনে গুরুত্ব হারাতে শুরু করেছিল শতাব্দী-প্রাচীন এই গণপরিবহনব্যবস্থা। মূলত ট্রাম কম্পানির কর্মীদের কাজের নিরাপত্তা যাতে থাকে, সে জন্য চালু হয়েছিল বাস। বহু ট্রামকর্মীই নতুন করে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন নতুন ধরনের কাজ রপ্ত করতে, কিন্তু কলকাতা শহরের সঙ্গে যেমন হাওড়া ব্রিজ, শহীদ মিনার, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তেমনই তার হাতে টানা রিকশা ও ট্রাম; বিশ্বের হাতে গোনা কিছু শহরে যা এখনো সচল।

ট্রাম প্রাসঙ্গিক রাখার একটা চেষ্টা শুরু হয়েছে কিছু বছর হলো। ময়দানের একটা সবুজে ভরা রুটে চালু হয়েছে রেস্তোরাঁ; ট্রামের কামরার ভেতরে এবং তা বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে। সেই তালিকায় সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সংযোজিত হলো চলন্ত পাঠাগার, বুকস অন হুইলস।

উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার থেকে মধ্য কলকাতার ধর্মতলা, বহু পুরনো এই ট্রাম রুট গেছে কলকাতার বইপাড়া ও বিশ্ববিদ্যালয়, আরো একাধিক স্কুল-কলেজ ছুঁয়ে। লেখক সুনীল গাঙ্গুলি যে স্কুলে পড়তেন, সেই টাউন স্কুল, স্কটিশ মিশনারিদের তৈরি স্কুল ও কলেজ, বিখ্যাত বেথুন কলেজ, বিদ্যাসাগর কলেজ পেরিয়ে কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় হিন্দু ও হেয়ার স্কুল, সংস্কৃত কলেজ, প্রেসিডেন্সি কলেজ, যা এখন স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, তার পাশেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। সব কটিই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। এরপর ট্রাম যখন ঘোরে ধর্মতলার দিকে, তখনো পর পর কয়েকটি মিশনারি স্কুল। এই গোটা রাস্তা ধরে রোজ একাধিকবার যাতায়াত করবে এক কামরার একটি ট্রাম, যার অভ্যন্তর বদলে দেওয়া হয়েছে পাঠাগারে। বাতানুকূল এই কামরায় থাকছে ওয়াই-ফাই পরিষেবা, বসে বই দেখার ব্যবস্থা।

রাজ্য পরিবহন নিগমের কর্মকর্তা কৌশিক সরকার বলেন, ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার আমাদের যে রুট আছে, সেখানে তো প্রচুর স্কুল-কলেজ পড়ে; সে কারণে আমরা বিভিন্ন বই রেখেছি।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা