kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে এক তরুণকে (১৮) খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠেছে। তাঁর গলায় জুতার মালাও ঝোলানো হয়। এমনকি কোদাল ও ক্ষুর দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে তাঁর মাথার চুল। এলাকার একজন ইয়াবা কারবারি ও মানবপাচারকারীর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে এই বর্বর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া মোনাফ মার্কেট এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ঘটে ঘটনাটি। পরে ওই তরুণকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এমন সময়ে ঘটনা ঘটল যখন কক্সবাজারের প্রতিটি থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা বদলিজনিত কারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ কারণে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি তারা। 

এলাকাবাসী জানায়, ভুক্তভোগী তরুণ মোনাফ মার্কেট এলাকার চা দোকানি এবং পশ্চিম সোনারপাড়ার এক বৃদ্ধ দিনমজুরের ছেলে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে নির্যাতন করা হলেও এলাকার লোকজন ভয়ে তাঁকে উদ্ধারে যেতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনায় জড়িত একই এলাকার শামসুল আলমের ছেলে জালাল উদ্দিন (৩৫) দাপুটে ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াবা ও মানবপাচারের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এলাকার রেবি ম্যাডাম হিসেবে পরিচিত একজন ‘নারী মানবপাচারকারীর’ ভাই জালাল।

জালিয়াপালং ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির গরু চুরির অভিযোগে ওই তরুণকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। বিষয়টি স্থানীয় ইনানী ফাঁড়ির পুলিশ কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিক জানাই।’ তিনি জানান, যে গরু চুরির অভিযোগ করা হয় সেটি মুহাম্মদের বাড়িতেই ছিল। তবু তরুণটি অপরাধী হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তাঁকে মারধর না করতে অনুরোধ জানান রফিকুল্লাহ। এর পরও তাঁকে মারধর করা হয়। গরুর মালিক ও প্রতিবেশী জালাল উদ্দিন সেখানে গিয়ে নির্যাতনে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় আরো কয়েকজন।

ইউপি মেম্বার আরো জানান, তিনি ঘটনার একটি ভিডিও হাতে পেয়েছেন। পরে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) জাহাঙ্গীরকে ডেকে তরুণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। চৌকিদার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি কিশোরকে (তরুণ) হাসপাতালে ভর্তির পর থানায় গিয়ে ঘটনা জানাই, কিন্তু থানার সব কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হওয়ায় কেউই ঘটনা আমলে নিতে চাচ্ছিলেন না।’

ইনানী ফাঁড়ির দায়িত্বরত পরিদর্শক জিয়াউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিশোর নির্যাতনের ঘটনার কথা শুনেছি, কিন্তু আমরা সবাই অন্যত্র বদলি হওয়ার কারণে মামলা-মোকদ্দমা বুঝিয়ে দিতে সাংঘাতিক ব্যস্ত। তাই ঘটনা দেখার সময় করতে পারছি না। ফাঁড়িতে নতুন যোগ দিতে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি দেখবেন।’

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপারসহ আটটি থানায় কর্মরত পুলিশের অন্তত দেড় হাজার সদস্যকে বদলি করা হয়েছে এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা