kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে তালা

১৭ পরিবার ১৩ ঘণ্টা পর মুক্ত

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে তালা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে একটি বাড়ির ১৭ পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্তি মেলে পরিবারগুলোর। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার রাতে মিজমিজি মৌচাক হাজী বশির উদ্দিন মার্কেট এলাকায় জব্বার মিয়ার তিনতলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিনের সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছে জব্বার মিয়ার। জব্বারের বাড়ির সামনের রাস্তাটি নিজের জায়গা বলে দাবি করেন সালাউদ্দিনের পরিবার। ওই রাস্তা ব্যবহারের জন্য জব্বারের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে সালাউদ্দিনের ছেলে সন্ত্রাসী মাসুম রানা। এ নিয়ে সামাজিকভাবে একাধিক সালিস বৈঠক হয়েছে। সমাজের সিদ্ধান্ত জব্বার মেনে নিলেও মাসুম মেনে নেননি। তাই তিনি কয়েক দিন আগে জব্বারের বাড়ির সামনের রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা গিয়ে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে দেন।

জব্বার মিয়ার ছেলে রনি জানান, এলাকার লোকজন কাঁটাতারের বেড়া খুলে দেওয়ার পর মাসুম ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাড়ির দুই পাশে ইটের দেয়াল তুলে দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ ও বাড়ির লোকজনকে ভেতরে রেখে প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেন। তাঁকে ১৫ লাখ টাকা না দিলে রাস্তা দিয়ে চলাচল বা ঘর থেকে বের হতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন। সারা দিন জিম্মি পরিবারগুলোকে কেউ খাবার পর্যন্ত দিতে পারেনি।

এদিকে খবর পেয়ে রাত ৯টায় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির সব সদস্যদের জিম্মিদশার বিষয়টি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুককে জানান। ওসি পুলিশ পাঠাচ্ছেন বললেও দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি।

পরে জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন গণমাধ্যমকর্মীদের। এর আধাঘণ্টা পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ইশতিয়াক আসফাক রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১১টায় প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভাড়াটিয়াসহ ১৭টি পরিবারকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করেন। এ ঘটনায় মাসুম রানাকে প্রধান ও অজ্ঞাতপরিচয় ছয়-সাতজনকে আসামি করে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক জব্বার মিয়ার মেয়ে বর্ণা আক্তার।

এই বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন ও তাঁর ছেলে মাসুম রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের ব্যবহূত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নাম প্রকাশ না করে সালাউদ্দিনের পরিবারের দুজন নারী জানান, জমির বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য সাত দিনের সময় নিয়েও রফাদফা না করায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে রাস্তায় দেয়াল করা হয়েছে। আর বাড়ির গেটে তাঁদের পরিবারের কেউ তালা লাগায়নি।

ঘটনার বিষয়ে এসআই ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্বার মিয়ার বাড়ির দুই পাশের রাস্তায় ইটের দেয়াল দেখতে পাই। তখন আমি দেয়াল ভেঙে রাস্তা উন্মুক্ত করে দুই পক্ষকে পরামর্শ দিই সীমানাসংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয়দের নিয়ে অথবা আদালতে গিয়ে সমাধান করতে। কেউ যেন কারো রাস্তা বন্ধ না করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানায়, সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এ কে এম শামীম ওসমানের মামাশ্বশুর শিল্পপতি মো. জালাল উদ্দিনের খালাতো ভাই। সেই সূত্রে সালাউদ্দিনের ছেলেরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মাসুম এর আগেও বেশ কয়েকটি বাড়ির রাস্তা বন্ধ করে ও কয়েকটি বাড়িতে তালা লাগিয়ে চাঁদা আদায় করেছেন। তাঁদের ভয়ে একটি বাড়ির মালিক রাতের আঁধারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক ও ওসি (তদন্ত) দুজনই জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেও আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

 

মন্তব্য