kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চাল ডাল পেঁয়াজে নাকাল ভোক্তা

রোকন মাহমুদ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাল ডাল পেঁয়াজে নাকাল ভোক্তা

চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে পেঁয়াজের অযৌক্তিক দ্বিগুণ দাম ভোক্তার ঘাড়ে। সেই বোঝা এখনো নামেনি। তার ওপর আবার বেড়েছে চাল, ডাল ও তেলের দাম। গত এক সপ্তাহে কেজিতে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কোনো কোনো চালের দাম। ভোজ্য তেল সয়াবিনে বেড়েছে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। মসুর ডালে সপ্তাহের ব্যবধানে ভোক্তাদের বাড়তি গুনতে হচ্ছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। প্রয়োজনীয় এসব নিত্যপণ্যের দামে নাকাল ভোক্তা। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারটি পণ্যই ভর্তুকি মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি করছে সরকার।

ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, সংকটের কথা বলে একশ্রেণির ব্যবসায়ী এসব পণ্যের বাজার থেকে ফায়দা নিচ্ছেন। বহুদিন ধরে এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছে তারা।

গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মোটা চাল গুটি ও স্বর্ণা ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও এসব চালের কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা ছিল। বিক্রেতারা বলছেন, মোটা চাল এখন আড়তে খুব একটা পাওয়া যায় না। দু-একটিতে বিক্রি হলেও দাম বেশি।

বাজারে মাঝারি মানের চাল লতা, পাইজাম ও ব্রি-২৮ খুচরা বিক্রেতারা ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি করছেন, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫-৪৬ টাকা। সরু চাল সাধারণ মানের মিনিকেটের কেজি ৫৮-৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ছিল ৫২-৫৪ টাকা। যে মানের মিনিকেট ও নাজিরশাইল আগে ৫৫-৬০ টাকা কেজি ছিল, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়।

ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, দেশে ২০১৭ সালে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চালের দাম  অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। তখন মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছিল। তারপর এ বছরই চালের দাম এতটা বেশি।

মুগদা বাজারের মেসার্স মরিয়ম স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চালের বাজার তিন-চার দিন আগে হঠাৎ অস্থির হয়ে ওঠে। পাইকারি বাজারে বাড়তি হওয়ায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয় গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। ওই দিন ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে দেশে রাতারাতি দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ কেজি ১০০ টাকা করে ফেলেন ব্যবসায়ীরা। গতকালও খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে, আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকায়। পাইকারিতে গতকাল আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আরো পাঁচ টাকা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকায় উঠেছে। ১০ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪৫ টাকা পর্যন্ত।

খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৩ টাকা লিটার। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৮৫-৮৮ টাকায়। অর্থাৎ লিটারে বেড়েছে পাঁচ টাকা। পাম সুপার তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা লিটার। আগে ছিল ৭৫-৮০ টাকা।

মসুর ডালের দামও বেড়েছে চলতি সপ্তাহে। গত সপ্তাহে খুচরায় মাঝারি দানার ডাল কেজি ৯০ টাকায় আটকে রাখা গিয়েছিল। এখন ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কারওয়ান বাজার ও মৌলভীবাজারে গতকাল পাইকারিতে এ মানের ডাল বিক্রি হয়েছে ৭৬-৭৮ টাকা কেজি দরে, যা আগের দিনও ৬৯-৭২ টাকা ছিল। বড় দানার মসুর ডালের দামও পাইকারি বাজারে চলতি সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে চার টাকা পর্যন্ত। ৫৮-৬০ টাকা কেজির ডাল এখন ৬২-৬৩ টাকা। বড় দানার ডাল কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা পর্যন্ত। আগে ৬৫-৭০ টাকায় পাওয়া যেত।

এভাবে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব দেশ থেকে ডাল আসে সেসব দেশে করোনার প্রভাব অনেক বেশি। ফলে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে দামও বাড়ছে। এই অবস্থা তেলের বাজারেও।

মন্তব্য