kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সৈয়দ হকের নামে পুরান ঢাকায় থিয়েটার মঞ্চ

আজিজুল পারভেজ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৈয়দ হকের নামে পুরান ঢাকায় থিয়েটার মঞ্চ

একসময় মোটামুটি জমজমাট সংস্কৃতিচর্চা ছিল পুরান ঢাকায়। ছিল মিলনায়তন, থিয়েটার মঞ্চ, সিনেমা হল। সংস্কৃতি ও বিনোদন উপভোগের সব সুযোগ সংকুচিত হতে হতে এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। সদরঘাটের লালকুঠি মিলনায়তন, যেখানে নিয়মিত নাটক মঞ্চস্থ হতো, সেটি এখন পরিত্যক্ত। সূত্রাপুরের জহির রায়হান মিলনায়তন নতুন উদ্যমে কয়েক বছর আগে চালু হলেও থিয়েটার কিংবা সংস্কৃতিচর্চার উপযোগী হয়নি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে চাইলে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মতো আয়োজন করা যায়। বছর দশেক আগে ৩৭ নম্বর চানখাঁরপুল লেনের (নতুন রাস্তা) বাড়ির তিনতলায় একটি কক্ষ নিয়ে ‘সন্ধ্যানিবেদন’ নামে একটি স্টুডিও থিয়েটার চালু হলেও এক বছর পর বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে লক্ষ্মীবাজারে চালু হচ্ছে একটি স্টুডিও থিয়েটার।

নাট্য নির্মাতা নাহিদ আহমেদ পিয়ালের পরিচালনায় ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে পুরান ঢাকায় চালু হয়েছিল স্টুডিও থিয়েটার সন্ধ্যানিবেদন। সাধারণ একটি কক্ষকে কয়েক দিনে একটি থিয়েটার হলে রূপান্তর করা হয়েছিল। সারা কক্ষে বিভিন্নভাবে মঞ্চের ব্যবহার হতো। তবে মাত্র এক বছর চালু ছিল স্টুডিও থিয়েটারটি। এই এক বছরে ১০টি প্রযোজনা মঞ্চস্থ হয়। একেকটি প্রযোজনার একাধিক শো হয়েছিল। প্রতিটির সময়কাল ছিল ২৫-৩০ মিনিট। প্রতিটি প্রযোজনাই ছিল নিরীক্ষামূলক। শোর পরে সামান্য সম্মানীর ব্যবস্থা ছিল। একটি ডেভেলপার কম্পানির কাছে বাড়িটি বিক্রি হয়ে গেলে থিয়েটার হলটি বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যানিবেদনের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন নাট্যকর্মী হামিদুর রহমান পাপ্পু। তাঁর স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল সেই সময়টি।

সন্ধ্যানিবেদনের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে এবার লক্ষ্মীপুরে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন স্টুডিও থিয়েটারের। এটির নামকরণ হয়েছে প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের নামে। কেন সৈয়দ হকের নামে? জানা গেল, লক্ষ্মীবাজারের ১ নম্বর বাড়িটি সৈয়দ শামসুল হকের। জীবনের দীর্ঘ সময় এখানেই কেটেছে তাঁর। এর পাশের ২ ও ৩ নম্বর বাড়িতেই যাত্রা শুরু করছে নতুন এই স্টুডিও থিয়েটার। এখানে বর্তমানে আছে কিন্ডারগার্টেন ‘চাইল্ড হ্যাভেন স্কুল’। স্কুলটি ছুটি হয়ে যায় দুপুর ১টার মধ্যে। দুইতলা পুরনো বাড়িটির মাঝখানের ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ২০ ফুট প্রস্থের একটি কক্ষকে থিয়েটার হলে রূপ দেওয়া হচ্ছে। দুটি নাট্যদল মৈত্রী থিয়েটার ও শৌখিন থিয়েটারের যৌথ উদ্যোগে যাত্রা করছে এটি। ৫০ জনের মতো দর্শক অনায়াসে এখানে নাটক উপভোগ করতে পারবে। প্রাঙ্গণে আছে খোলা জায়গা। তা ছাড়া পাশের সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে আছে ফাঁকা জায়গা, চাইলে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে নির্বিঘ্নে।

শুরুর কথা বলতে গিয়ে শৌখিন থিয়েটারের প্রধান নির্বাহী হামিদুর রহমান পাপ্পু জানান, ‘সন্ধ্যানিবেদনের সেই ভালো লাগা, ভালোবাসা আবারও প্রতিফলিত হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হক হলের মাধ্যমে। মৈত্রী থিয়েটারের দলীয় প্রধান নিয়াজ ভাই, শৌখিন থিয়েটারের আলমগীর ও আমি একদিন আলাপ করছিলাম চাইল্ড হ্যাভেন স্কুলে থিয়েটার চর্চার জন্য একটি নতুন স্টুডিও হলের মতো কিছু করা যায় কি না। সেই কথা নিয়ে নিয়াজ ভাই প্রস্তাব দিলেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আহসান সিদ্দিকীকে। তিনি তাঁর স্কুলের জায়গাটি আমাদের ব্যবহার করা জন্য অনুমতি দিয়েছেন এবং আমাদের এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন। আহসান ভাই মনেপ্রাণে একজন সংস্কৃতিপ্রেমী। তিনি আমাদের কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছেন।’

আগামী শুক্রবার দুই দিনের নাট্য উৎসবের মাধ্যমে সৈয়দ শামসুল হক হলটির উদ্বোধন হবে। উদ্বোধন করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

উদ্বোধনী দিন সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে হামিদুর রহমান পাপ্পু নির্দেশিত মনোজ মিত্রের নাটক ‘প্রভাত ফিরে এসো’। নাটকের পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় দিন শনিবার, সন্ধ্যা ৬টায় নিয়াজ আহমেদ নির্দেশিত রমানাথ রায়ের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘চা অথবা কফি’। এরপর মঞ্চস্থ হবে শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের বহুল মঞ্চায়িত রওশন জান্নাত রুশনী রচিত ও দেবাশীষ ঘোষ নির্দেশিত নাটক ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’। টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। থিয়েটার ও অনুষ্ঠানের জন্য হলটি ভাড়া দেওয়া হবে এক হাজার ৫০০ টাকায়।

পুরান ঢাকার সংস্কৃতিচর্চার বর্তমান হালচাল এবং নতুন থিয়েটার হলটির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানজারুল ইসলাম সুইট বলেন, ‘পুরান ঢাকায় একসময় সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ খুবই অবারিত ছিল। সিনেমা হলই ছিল আটটি, লালকুঠি মিলনায়তনে থিয়েটার হতো নিয়মিত, পর্যাপ্ত পাঠাগার ছিল। শিশু সংগঠন ছিল অনেক। এখন অনেক কিছুই সংকুচিত হয়ে গেছে। ধূপখোলা মাঠে একটি মুক্তমঞ্চ ছিল, সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন স্টুডিও থিয়েটারটির মাধ্যমে আশা করি আমাদের নাট্যচর্চা আরো বেগবান হবে। সৈয়দ শামসুল হক হলের মাধ্যমে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা