kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সবিশেষ

বোমা নিষ্ক্রিয় করবে লেজার রশ্মি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বোমা নিষ্ক্রিয় করবে লেজার রশ্মি

লেজার রশ্মি পাতলা ধাতুর স্তর দ্রুত কাটতে পারে। শুধু নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করা নয়, নির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের কারণে লেজার রশ্মি প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। যেমন সূক্ষ্ম মাত্রার লেজার রশ্মি দিয়াশলাই কাঠির বারুদে খোদাই করতে পারে অথচ আগুন জ্বলে ওঠে না। আগুন দিয়ে পোড়ানো হলেও দিয়াশলাই পুড়ে যায় না। এত সূক্ষ্মভাবে পরিমাণ স্থির করা যায় এবং ইস্পাতও কাটতে পারে বলে বোমা নিষ্ক্রিয় করার মতো দুরূহ কাজে লেজার রশ্মি কাজে লাগানো যেতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তি জার্মানির ওপর প্রায় ১৬ লাখ টন বোমা ফেলেছিল। সব বোমার বিস্ফোরণ ঘটেনি। আজও প্রায় এক লাখ বোমা মাটির নিচে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে লেজার রশ্মির সাহায্যে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জার্মানির লেজার সেন্টার হানোফারের ইয়োর্গ হ্যার্মসডর্ফ বলেন, ‘এই রাসায়নিক ডেটোনেটর কাজে লাগালে যেকোনো সময় বোমার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। লেজার কিন্তু বোমা পর্যন্ত ছোঁয় না। আমি গোটা প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করে তুলতে পারি, প্রয়োজন অনুযায়ী রদবদল করতে পারি।’

লেজার রশ্মি প্রথমে ধাতুর মোড়কে নির্দিষ্ট জায়গা কেটে দেয়। তারপর অতি সাবধানে বিস্ফোরক গরম করে। এমন মাত্রা রাখা হয়, যাতে বারুদ বিস্ফোরণের বদলে ধীরে ধীরে পুড়ে যেতে পারে। শেষে ডেটোনেটর ছিটকে বেরোলে এবং ধাতুর স্তরে ফাটল ঘটলে সামান্য একটা শব্দ হয়। কোনো ক্ষতি না করেই বোমার মোড়কে ফাটল ধরানো গেছে। বাস্তব জীবনে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ইয়োর্গ হ্যার্মসডর্ফ বলেন, ‘বড় শহরের প্রায় সব কোণেই বোমা লুকিয়ে আছে। নিরাপদে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করলে অবশ্যই মানুষের প্রাণ রক্ষা করা যায়। শুধু নতুন প্রযুক্তি সৃষ্টি করার চেয়েও এর মূল্য আমার কাছে অনেক বেশি।’ আগামী বছরগুলোতে লেজারের সরঞ্জাম অনেক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে চলেছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা