kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নুরসহ ছয়জনের নামে সেই বাদীর আরেক মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নুরসহ ছয়জনের নামে সেই বাদীর আরেক মামলা

ধর্ষণ, অপহরণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলাও করেছেন গত রবিবার রাতে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী। এদিকে দুটি মামলাকেই মিথ্যা উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নুরের সংগঠন ছাত্র অধিকার সংগ্রাম পরিষদ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় গত সোমবার রাতে মামলাটি করা হয়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এই ছাত্রী লালবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে এই মামলার ১ নম্বর আসামি এবং আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি নুরকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি। এর আগে লালবাগ থানায় দায়ের হওয়া একই বাদীর অন্য মামলায় নুরকে ৩ নম্বর আসামি আর হাসান আল মামুনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। বাকি তিন আসামি হলেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নাজমুল হুদা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ হিল বাকি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মামলায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় মামলা করেছিলেন, তিনিই কোতোয়ালি থানার মামলাটিও করেছেন। তবে ঘটনা দুটি ভিন্ন। কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগ আনা হয়েছে।

লালবাগ থানার মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে, একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কাজে যুক্ত থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তাঁর লালবাগের বাসায় নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এই অভিযোগেই তিনি লালবাগ থানার মামলাটি করেন।

কোতোয়ালি থানার মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ওই ঘটনার পর বাদী অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহাগ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তখন সোহাগ তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং মামুনের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে সদরঘাট হয়ে লঞ্চে চাঁদপুরে নিয়ে যান। কিন্তু চাঁদপুরে মামুনকে না পেয়ে ফেরার পথে লঞ্চে সোহাগ তাঁকে ধর্ষণ করেন।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ওই তরুণী নুরের সঙ্গে দেখা করেন। নুর প্রথমে মীমাংসার আশ্বাস দিলেও পরে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির হুমকি দেন। এরই মধ্যে মামলার বাকি তিন আসামি নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করেন।

প্রতিবাদ বিক্ষোভ : নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পর পর দুটি মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবিতে গতকালও প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ। এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে তারা হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনার ও টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে পুনরায় সমাবেশ করে।

নিন্দা : ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মামলায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল  হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া নিন্দা জানিয়েছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের একটি বিশেষ অঙ্গসংগঠনের মহিলা কর্মীদের নাম জড়িয়ে একের পর এক মিথ্যা ও নোংরা মামলা দিয়ে নুরকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা সরকারকে এই রাজনৈতিক নোংরামি বন্ধ এবং নুরের বিরুদ্ধে সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে নুরসহ আন্দোলনরত সব নেতাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’

পৃথক বিবৃতিতে নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নিন্দা জানান বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার নৈতিক জোর ও শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণে বিরোধীদের হয়রানি করতে  মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন ও হামলার পথ বেছে নিয়েছে। 

শুনানি : নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা নারী নির্যাতন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার মামলার এজাহার গ্রহণ করে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নুর আলমকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের এই নির্দেশ দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা