kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প

করোনা চীনা ভাইরাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা চীনা ভাইরাস

ছবি: ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারির জন্য ফের চীনকে দায়ী করেছেন। অনন্য সাধারণ পরিবেশে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। প্রায় পুরোপুরি ভার্চুয়াল এ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণ দেওয়ার ধরনটিও ছিল অন্য রকম। নিজ দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে একেবারে নির্বাচনী আবহে মোড়া। তিনি চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডাব্লিউএইচও) এক হাত নিয়েছেন। জলবায়ু আন্দোলনে সোচ্চার দেশগুলোকেও ছেড়ে কথা বলেননি।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর ওপর রয়েছে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতা। সব মিলিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নতুন একটি স্নায়ুযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করছেন। এ আশঙ্কার বাস্তবায়ন এড়াতে তিনি সংস্থায় বহুত্ববাদ ও ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

কভিড-১৯-কে ফের ‘চীনা ভাইরাস’ হিসেবে অভিহিত করে গতকাল মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পুরো বিশ্বকে যে দেশটি এই নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তাকে অবশ্যই আমাদের দোষী সাব্যস্ত করতে হবে।’ গত বছর ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প আরো বলেন, ‘চীনা সরকার এবং চীন নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভুল তথ্য দিয়ে ওই সময় বলেছিল, এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।’

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে যাওয়া ট্রাম্প কার্বন নির্গমন এবং প্লাস্টিক দূষণ ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করে বলেন, ‘জলবায়ুসংক্রান্ত ইস্যুতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তারা চীনের দূষণ দেখতে পায় না। চীন পরিবেশের কী ক্ষতি করে চলেছে তা নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দিতে চায়। আমি কোনোভাবেই এটা মেনে নেব না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে ডাব্লিউএইচও থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই সংস্থার সবচেয়ে বড় তহবিলের জোগানদাতা যুক্তরাষ্ট্র। এই সংস্থাটি শুধু করোনাভাইরাসই নয়, পোলিও, ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও বড় ভূমিকা পালন করে। ট্রাম্পের সমালোচকরা অবশ্য বলছেন, নিজ দেশে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই জাতিসংঘে এই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে দুই লাখ পার হয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে করোনায় এত লোক মারা যায়নি।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন শুরু হয়েছে গত সোমবার। ওই দিনই চীনের প্রেসিডেন্টসহ বহু বিশ্ব নেতা পূর্বে ধারণকৃত ভাষণ দেন। এবারের বিশেষ ব্যবস্থার কারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চাইলেও ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দিতে পারবেন না। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেন, বেইজিং ট্রাম্পের এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে।

এই গুমোট পরিস্থিতির আঁচ আগেই পেয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। গুতেরেস প্রথম দিনের ভাষণেই স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভব সব কিছুই করতে হবে আমাদের। আমরা এক ভয়ংকর দিকে অগ্রসর হচ্ছি। বিশ্বের দুটি বৃহত্তর অর্থনীতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা আমাদের বিশ্বের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। এদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা ও নিয়ম, ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা রয়েছে।’

এ ছাড়া গুতেরেস করোনাভাইরাস নিয়ে জাতীয়তাবাদী মনোভাবেরও সমালোচনা করেন। তবে তিনি ট্রাম্প বা অন্য কোনো নেতার নাম নেননি। তিনি বলেন, ‘লোকরঞ্জনবাদ ও জাতীয়তাবাদের নীতি এরই মধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।’ সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা