kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাভারে বোনকে ভাইয়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাভারে বোনকে ভাইয়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা

অভিযুক্ত মিজান

প্রেমে সাড়া না পেয়ে নীলার ওপর ছিল মিজানের দারুণ ক্ষোভ। একপর্যায়ে মিজানের মনের সেই ক্ষোভ রূপ নেয় ক্রোধে। সেই ক্রোধ থেকেই গত রবিবার রাতে সিনেমাটিক কায়দায় রিকশার গতি রোধ করে ভাইয়ের হাত থেকে বোনকে ছিনিয়ে নিয়ে উপর্যুপরি ছুিরকাঘাতে নীলাকে হত্যা করেন বখাটে মিজান (২০)। সাভার পৌর এলাকার গার্লস স্কুল রোডে পালপাড়া মহল্লায় মর্মস্পর্শী এই হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সাভার থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত মিজানকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সাভারের অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলা রায় (১৪) মানিকগঞ্জের বালিরটেক এলাকার নারায়ণ রায়ের মেয়ে।

সে তার পরিবার নিয়ে সাভারের কাজী মোকমাপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। অন্যদিকে বখাটে মিজানুর রহমান স্থানীয় ব্যাংক কলোনি এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে। মিজান স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এর আগে একবার তিনি টেস্ট পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

নীলার পরিবার জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে নীলাকে বখাটে মিজান প্রেম নিবেদন করে আসছিলেন। ফেসবুক বন্ধু হয়ে চ্যাট করার প্রস্তাবও দেন। এসব প্রত্যাখ্যান করায় গত রবিবার রাত ৮টার দিকে অসুস্থ নীলাকে নিয়ে তার বড় ভাই অলক রায় রিকশাযোগে স্থানীয় হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। এ সময় মিজান এসে রিকশাটির গতি রোধ করেন। পরে ভাই অলককে হত্যার হুমকি দিয়ে মিজান রিকশা থেকে নীলাকে টেনেহিঁচড়ে সাভার বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের একটি গলিতে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর হাতে দুটি ছুরি ছিল। ভয়ে ভাই অলক বাসার দিকে চলে যান। একপর্যায়ে মিজান নীলাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফেলে পালিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন নীলাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নীলার শরীরের ঘাড়, মুখ ও পেটে পাঁচ থেকে ছয়টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নীলার ভাই অলক রায় দাবি করেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মিজান তাঁর বোনকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। এর প্রতিবাদ করলেই মিজান তাঁদের পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিতেন। তাঁরা মিজানকে দুর্ধর্ষ আর ক্ষমতাধর মনে করে ভয়ে সব চেপে যেতেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে বিপদে পড়তে পারেন, এমনটি ভেবে তাঁরা পুলিশকেও কিছু জানাননি। মিজান বলতেন, থানা পুলিশ ওঁদের কথায় চলে। কিছু বখাটে ছেলের সঙ্গেও ওঁর সম্পর্ক ছিল। তাই সব নীরবে সহ্য করেছেন তাঁরা।

নীলার মা মুক্তি রায় জানান, মিজানের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মিজানের মা-বাবাকে বলা হয়েছিল ছেলেকে শাসন করতে, কিন্তু তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো নীলাকে মিজানের সঙ্গে কথা বলতে ও ফেসবুকে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। মিজানের অত্যাচারে বছরখানেক আগে তাঁরা সাভারের বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিরটেকে চলে গিয়েছিলেন। ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে কয়েক মাস পরে তাঁরা আবার সাভার আসেন। এর কিছুদিন পর মিজান ফের তাঁর মেয়ের পিছু নেন।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, নীলার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সাভার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রেমে সাড়া না দেওয়ায় এ হত্যা, না কি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটকের পর মূল ঘটনা জানা যাবে। তাঁকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা