kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাদক অ্যামফিটামিন পাচারের হোতা দুই প্রতিষ্ঠানের দুজন

সন্দেহে অন্য পাঁচ প্রতিষ্ঠানও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক অ্যামফিটামিন পাচারের হোতা দুই প্রতিষ্ঠানের দুজন

আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের কার্টনে জিন্সের প্যান্টের আড়ালে মাদক অ্যামফিটামিন পাচারের চেষ্টা চালিয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তি। ‘নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের রুবেল হোসেন ‘ইউনাইটেড ফ্রেইট লিমিটেডের’ বাবলুর পরামর্শে ‘ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেডের’ মাধ্যমে কুরিয়ারে চালানটি অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে চেয়েছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত বছর ধরে ইউনাইটেড ফ্রেইটের পণ্য পরিবহনের কাজ করে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস। ইউনাইটেড ফ্রেইটের কর্মী বাবলুর অনুরোধে প্রথমবার নেপচুন ফ্রেইটের রুবেলের পণ্য পরিবহন করা হয়, যেখানে অ্যামফিটামিন পাওয়া গেছে। এ কারণে রুবেল ও বাবলু এই মাদক চালানের নেপথ্যে ছিলেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। চালানের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সাতটি প্রতিষ্ঠানের অন্য কেউ জড়িত কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তারকৃত ছয় সন্দেহভাজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরিচালক (অপারেশন) ডিআইজি ড. এ এফ এম মাসুম রব্বানী বলেন, ‘মাদক পাচারকারীচক্র অ্যামফিটামিনের এই চালান প্রথমে দেশে এনেছে। পরবর্তী সময়ে তা কুরিয়ারের মাধ্যমে অন্য দেশে পাচার করা হচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রধান সন্দেহভাজন দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের ধরলে রহস্য বেরিয়ে আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও দায় এড়াতে পারে না। সে কারণে তাদের সংশ্লিষ্টতাও যাচাই করা হচ্ছে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে গত ৯ সেপ্টেম্বর সাতটি কার্টনে তল্লাশি চালিয়ে জিন্সের প্যান্টের আড়ালে অভিনব কায়দায় লুকানো ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম সন্দেহজনক দ্রব্য পায় ডিএনসি। পরে ডিএনসির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষায় অ্যামফিটামিন পাওয়া যায়, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদক।

বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডের (আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ফেডেক্সের বাংলাদেশ এজেন্ট) পার্সেলে শিপারের নাম ছিল নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেড, বাড়ি-৫০১, রোড-১৪, কেরানীগঞ্জ। হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো পার্সেলের প্রাপকের ঠিকানা লেখা আছে—দাস সিং ৩৪ কলম্বিয়া রোড, মেলবোর্ন, নারে ওয়ারেন লিআইসি ৩৮০৫। রপ্তানিতে কাস্টমের জন্য ম্যানুয়ালি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে রপ্তানিকারকের পক্ষে মেসার্স ডিনামিক ট্রেডার্স এবং বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেড (ফেডেক্স) এজেন্ট ইউনাইটেড এক্সপ্রেস, ১৬৭, সার্কুলার রোড, ঢাকা।

কার্গো ভিলিজের ভেতরে লোডিং কাজ করে এমজিএইচ গ্রুপ। চালানটি জব্দ করার পর ডিএনসির কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেন বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (অপারেশন) রাসেল মাহমুদ, ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের মহাব্যবস্থাপক গাজী শামসুল আলম, এক্সপোর্ট কার্গোর ভেতরে এমজিএইচ গ্রুপের লোডিং সুপারভাইজার কাজল থুটোকিশ গোমেজ; কার্গো হেলপার/লোডার হামিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামকে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাঁদের তিন দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এরই মধ্যে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের মহাব্যবস্থাপক গাজী শামসুল আলম দাবি করেন, তাঁরা গত ১০ বছর ধরে ইউনাইটেড ফ্রেইটের পণ্য পরিবহনের কাজ করছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের বাবলুর অনুরোধে প্রথমবার নেপচুন ফ্রেইটের রুবেলের চালানটি বুকিং দেওয়া হয়। চালানে মাদক থাকার বিষয়টি তাঁরা জানতেন না।

তদন্তকারীদের একজন পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই চালানের সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের দুজন ছাড়া অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লোকজনও জড়িত থাকতে পারে। কারণ চালানটি কার্গো ভিলেজে যেতে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা