kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অপরাধ নটর ডেম কলেজে লেখাপড়া

মির্জাপুরে এক পরিবার সমাজচ্যুত

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মির্জাপুরে এক পরিবার সমাজচ্যুত

ঢাকার নটর ডেম কলেজে লেখাপড়া করায় ‘খ্রিস্টান’ অপবাদ দিয়ে জুয়েল খান নামের এক মেধাবী ছাত্রের পরিবারকে চার মাস ধরে সমাজচ্যুত করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, ওই পরিবারের কেউ সমাজের অন্য কোনো লোকের সঙ্গে মেলামেশা করার চেষ্টা করলে তাদের বাড়িঘরও ভেঙে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ঈদুল আজহায় ওই পরিবারকে সামাজিকভাবে পশু কোরবানিতেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের তরফপুর ইউনিয়নের পাথালিয়াপাড়া গ্রামের। গত শনিবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

জুয়েল খান উপজেলার তরফপুর পাথালিয়াপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করার পর ৪০তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানা ও আদালতে মামলা করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাড়ির সীমানা নিয়ে জুয়েল খানের পরিবারের সঙ্গে চাচাতো ভাই আবদুর রশিদ খানের ছেলে শরিফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে গত ১ মে শরিফুল ইসলামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে জুয়েলদের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় একই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মাসুদ জুয়েলকে উদ্দেশ করে বলেন, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করে তারা নাস্তিক। নাস্তিকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়ে জুয়েলের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন তাঁরা। এ ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার পরও ওই পরিবারের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জুয়েলের মা আমেনা বেগম জানান।

তরফপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বাস্থ্যকর্মী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জুয়েলের পরিবার সমাজের কাউকে মানে না। এ কারণে মুরব্বিরা তাঁদের সমাজচ্যুত রাখার কথা বলেছেন।’ একই গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইসলাম জানান, জুয়েলের পরিবারকে সমাজচ্যুত রাখতে শরিফুলের লোকজন সবার সই নিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। গ্রামের মাতবর তরফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেদ মিয়া বলেন, ‘দুই পরিবারের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে আমরা মামলার আসামি হয়েছি।’

মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, গ্রামের কয়েকজন মাতবর মিলে জুয়েলের পরিবারকে খ্রিস্টান অপবাদ দিয়ে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন। বিষয়টি খুবই অমানবিক। পুলিশি তদন্তে এর সত্যতা রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য