kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তিন জেলায় টর্নেডো, ভারি বর্ষণ হতে পারে আজ

উপকূলে ৩ নম্বর সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপকূলে ৩ নম্বর সংকেত

যশোরের অভয়নগর, ভোলার চরফ্যাশন ও বরগুনার বামনায় গতকাল রবিবার সকালে টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। ভেঙে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সরবরাহ বন্ধ। ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলকায় গতকাল একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, যেটি আজ সোমবার সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিতে পারে। মঙ্গলবার কিংবা বুধবারে তা ভারতের স্থলভাগে নিম্নচাপের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে গতকাল দেশের অনেক জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এখন বর্ষা মৌসুম। তাই বৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে গত কয়েক দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম। চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণও হতে পারে। ভারি বর্ষণের ফলে দেশের নদ-নদীর পানি ফের বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রামে চতুর্থ দফা বন্যা চলছে। নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকলে নতুন করে বন্যাকবলিত হতে পারে নতুন নতুন জেলা। অবশ্য ওই বন্যা হলেও তা দীর্ঘ মেয়াদে হবে না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং তা উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। লঘুচাপের প্রভাবে আজ সোমবার দেশের খুলনা, বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক দিন দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা আজ থেকে কমবে।’

এদিকে আমাদের অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, যশোরের অভয়নগরে এক মিনিটের টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে মোয়াল্লেমতলা, অভয়নগর ও ভাটপাড়া। ভেঙে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। ছিঁড়েছে বিদ্যুতের তার, বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। সরেজমিনে মোয়াল্লেমতলা, অভয়নগর ও ভাটপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের বাড়ি ও রাস্তা থেকে ভেঙে পড়া গাছ ও ডাল অপসারণের কাজ করছে। ঘরের উড়ে যাওয়া চাল মেরামত করছে। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া আসবাব, কাপড়, পাঠ্য বই ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রোদে শুকাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে।

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, টর্নেডোর আঘাতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় আসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। ঝড়ের আঘাতে ২০ জন আহত হয়েছে। শিক্ষক মাওলানা ছালাউদ্দিন বলেন, ‘রাতে টর্নেডোতে আমার ঘরের চালা কোথায় যে উড়িয়ে নিয়ে গেছে এখন পর্যন্ত হদিস পাইনি।’ সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের খোলপটুয়া গ্রামে বয়ে যাওয়া টর্নেডোর আঘাতে জেলে বাবুল চন্দ্র মিস্ত্রীর বসতঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে চার সদস্যের ওই পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা