kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাছকে এক বছরের জট

রফিকুল ইসলাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষাছকে এক বছরের জট

করোনা এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাছকে জট পাকিয়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় হচ্ছে না ক্লাস, শিক্ষার্থীরা বসতে পারছেন না পরীক্ষায়। তালাবদ্ধ আবাসিক হল ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে নোঙর শিক্ষার্থীদের। অনলাইনে ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষাজটের লাগাম টানতে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হলেও কার্যত ফল দেয়নি। প্রযুক্তি জটিলতায় বড় একটি অংশ অনলাইনে ক্লাসের আওতার বাইরে। সব মিলিয়ে নিশ্চিত বলে দেওয়া যায় দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠটির শিক্ষা কার্যক্রমে প্রায় এক বছরের তালগোল লাগবেই।

এই প্রেক্ষাপটে সেশনজটের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন। প্রতি ছয় মাস পর পর এক সেমিস্টার পদ্ধতি স্থগিত করে বছর শেষে একটি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুই সেমিস্টার এক করে একটি পরীক্ষা হবে। এক বছরে যতগুলো ক্লাস নেওয়ার বিধান সেটা শেষ করে পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা বন্ধের দিনে ক্লাস নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চায় প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতি কার্যত স্বাভাবিক না হলেও আবাসিক হল খুলে দেওয়া ও শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে নানামুখী চাপ তৈরি হয়েছে। এ বছর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও ক্লাস হয়েছে দুই মাস। আবার তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষ আটকে গেছে দুই-তিনটা সেমিস্টারে। এই পরিস্থিতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে সেশনজট খুব বেশি না হলেও বড় শঙ্কায় পড়েছেন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। কারো একটি, কারো দুটি সেমিস্টার, আবার কারো চূড়ান্ত প্রজেক্ট জমা দেওয়া আটকা পড়েছে। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দিকে নজর প্রশাসনের।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০ মার্চ থেকে আবাসিক হল বন্ধের ঘোষণা আসে। সেখান থেকে ছয় মাসের বেশি সময় বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গাদাগাদি করে অবস্থান করায় এখনই হলগুলো খুলতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তবে মহামারি পরিস্থিতিতে হল খুলতে একটি গাইডলাইন করছে। পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলে আবাসিক হল খুলবে। তবে কবে নাগাদ খোলা হতে পারে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হলে নতুন সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার। সরকারের সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আগামী নভেম্বরের মধ্যে আবাসিক হল ঝুঁকিমুক্তভাবে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত হলে খোলা হতে পারে।

প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা জানান, বৈশ্বিক করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে নানামুখী পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয়। নভেম্বরের পরিস্থিতির উন্নতি হলে সাপ্তাহিক বন্ধ ও ছুটির দিনে ক্লাস নেওয়ার চিন্তা রয়েছে প্রশাসনের। সাধারণত সপ্তাহে কোর্সের দুটি ক্লাস হয়, নতুন পরিকল্পনায় ক্লাস দ্বিগুণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। সময় বিবেচনায় না নিয়ে ক্লাস ঠিকঠাক রেখে শিক্ষা কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ কে এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এ বছরের শুরুর দিকে কিছু ক্লাস হলেও মাঝামাঝিতে কোনো ক্লাস নেওয়া যায়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে দুই সেমিস্টারকে এক করে বছর শেষে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

মাকসুদ কামাল আরো বলেন, ‘কিছু বিভাগে সেমিস্টার শেষ করতে দুই-একটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে। সেগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অবশিষ্ট সময়ে বাড়তি ক্লাস, সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে ক্লাস ও শিক্ষাবর্ষের সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

অনলাইন ক্লাসেও উপস্থিতি কম : গত জুলাইয়ে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রমে ঢুকেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মফস্বলে অবস্থান, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না। কাজেই শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও সবার উপস্থিতি না থাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘বর্তমানের অনলাইন ক্লাসের বিকল্প নেই। গোটা বিশ্বই করোনার মুখোমুখি। তবে যেসব শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারবে না, তাদের জন্য কয়েক সপ্তাহ রিভিউ ক্লাস নেওয়া হবে। যারা অনলাইনে অংশ নেয়নি তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে। হলের ভেতরে, নিজ কক্ষে ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাওয়ার ক্ষেত্রে গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েই হল ও ক্যাম্পাস খুলবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা