kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তাকসিমকে ফের এমডি করতে সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাকসিমকে ফের এমডি করতে সুপারিশ

নানামুখী অব্যবস্থাপনার জন্য সমালোচিত প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ষষ্ঠবারের মতো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করতে যাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড। আজ রবিবার বা আগামীকাল সোমবার বোর্ডের এসংক্রান্ত প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে যেতে পারে।

গতকাল শনিবার অনলাইনে বিশেষ বোর্ড সভা আহ্বান করে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের সদস্যরা। তবে নিয়মবহির্ভূতভাবে আয়োজিত এই সভায় তাঁকে পূর্ণ মেয়াদ, নাকি ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দিতে সুপারিশ করা হবে সে বিষয়টি খোলাসা হয়নি।

ঢাকা ওয়াসায় টানা ১১ বছর এমডির দায়িত্বে থাকা তাকসিম এ খান নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার জন্য সমালোচিত। তাঁকে আবারও ষষ্ঠবারের মতো এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তোড়জোড় নিয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

জানা গেছে, তাকসিম এ খান ২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে প্রথম নিয়োগ পান। এর পর থেকে নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে পদটি তিনি নিজের করে রেখেছেন। পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন ১৯৬৬ অনুযায়ী বিশেষ বোর্ড সভা আয়োজনের এখতিয়ার বোর্ড চেয়ারম্যানের। তাঁর অবর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান, এমডি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা এর আয়োজন করতে পারেন। তবে গতকালের বিশেষ সভাটির আয়োজন কার আগ্রহে করা হয়েছে সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

পদ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য তাকসিম এ খান নিজেই অনলাইনে বিশেষ সভাটি আহ্বান করেছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াসার কর্মকর্তারা। ৯৭তম বিশেষ সভার জন্য বোর্ড সদস্যদের ইস্যু করা চিঠিতে ঢাকা ওয়াসার সচিব প্রকৌশলী শারমিন হক আমীর স্বাক্ষর করেছেন। তবে কার নির্দেশে তিনি চিঠি ইস্যু করেছেন সে বিষয়ে জানার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

সভায় সভাপতিত্ব করা ওয়াসা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বোর্ড সভার সদস্যরা নিজেদের মতো করে মতামত তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ বলেছেন ছয় মাসের জন্য এমডি হিসেবে তাকসিম এ খানকে নিয়োগ দিতে। আবার কেউ কেউ পূর্ণ মেয়াদে তাঁকে সমর্থন করেছেন। আমরা সবার বক্তব্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সরকার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সভা একজন আহ্বান করলেও এজেন্টসহ আমন্ত্রণপত্র সবাইকে আগেই পাঠানো হয়েছে।’

বোর্ড সভায় উপস্থিত সদস্যরা জানান, ঢাকা ওয়াসার ১২ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় তাকসিম এ খানের মেয়াদ আবারও বাড়ানো নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষে কথা হয়েছে। দায়িত্বকালে তাঁর কাজের বিষয়েও আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষেও কথা বলেছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ ছয় মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে অন্য কাউকে এমডি হিসেবে সুপারিশ করার প্রস্তাব করেননি কেউ।

সভায় উপস্থিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে বোর্ড সদস্য হলেও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করি। ওয়াসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বোর্ডের। তবে বোর্ডের চেয়ে বেশি ক্ষমতা এমডির। পক্ষে-বিপক্ষে কথা হয়েছে। শেষে তাকসিম সাহেবকেই সুপারিশের ব্যাপারে একমত পোষণ করতে হয়েছে সবাইকে। কেউ আপত্তি করেনি।’

ওয়াসার বোর্ড সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর আলেয়া সারোয়ার ডেইজি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সভায় সবাই নিজের মতো করে মতামত দিয়েছেন। কেউ বলেছেন বর্তমান এমডিকে ছয় মাসের জন্য নিয়োগের সুপারিশ করতে। আবার কেউ বলেছেন পূর্ণ মেয়াদ অর্থাৎ তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে। এখন সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’

তাকসিম এ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমিও উপস্থিত ছিলাম। তবে এসব বিষয়ে নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের মানা রয়েছে।’

এদিকে ওয়াসার বর্তমান এমডির মেয়াদ বাড়ানো প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিতর্কিত নিয়োগের পর প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় টানা পাঁচ মেয়াদে ১১ বছর ধরে তিনি দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিবারই তাঁর নিয়োগ নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে আইন ও নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। এমনকি প্রথমবার নিয়োগের সময়ই অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য দালিলিক নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা আশা করেছিলাম এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা দেখানো হবে; কিন্তু তা হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা