kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তদন্ত প্রতিবেদন

১০ প্রতিষ্ঠানের ৫৫ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

মামলা দায়েরের প্রস্তুতি

ফারজানা লাবনী   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ প্রতিষ্ঠানের ৫৫ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

গত জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে ১০ প্রতিষ্ঠানের ৫৪ কোটি ৮১ লাখ ২১ হাজার ৫৬৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সরকারের পাওনা এই ভ্যাট পরিশোধ না করলে প্রচলিত রাজস্ব আইনে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআরে পাঠানো ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। বছরে ১০০ কোটি টাকা বা এর বেশি লেনদেন হয়েছে, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং লেনদেনের সব তথ্য সংগ্রহ করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। এসব প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রিটার্নের তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। ভ্যাট রিটার্ন থেকে আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদিত পণ্যের উপকরণ কেনা, পণ্য বিক্রির তথ্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাংকিং লেনদেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং লেনদেনের ভ্যাট রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে, এমন ৪৩টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ১০ প্রতিষ্ঠানের কারখানায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দারা আয়-ব্যয়, ক্রয়-বিক্রয়সহ অন্যান্য হিসাবের কাগজপত্র জব্দ করেন। জব্দ কাগজপত্র তদন্ত শেষে এই ১০ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত দুই মাসে ১০ প্রতিষ্ঠানের ৫৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। সরকারের পাওনা পরিশোধ না করলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পণ্যের দামের সঙ্গে ভ্যাট আদায় করেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি কোষাগারে হিসাবের চেয়ে অনেক কম পরিমাণে ভ্যাট জমা দিচ্ছেন। কেউ দিচ্ছেনও না। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং লেনদেনের সঙ্গে ভ্যাট রিটার্নের তথ্যের বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।’

ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার তথ্য-প্রমাণসহ এনবিআরে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে যে ১০ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম হলো গত ১২ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরের নিজাম ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এক কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। ১৪ জুলাই রাজধানীর গুলশান-২-এর খানা খাজানা, প্রতিষ্ঠানটির ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২৮ জুলাই রাজধানীর কদমতলীর মেসার্স শরীফ ইলেকট্রিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন কোটি ৮৪ লাখ দুই হাজার ৩৬২ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ চার কোটি ৩৬ লাখ ছয় হাজার ৭৩৬ টাকা। গত ১৬ আগস্ট ধানমণ্ডিতে জাবেদ হাবিব হেয়ার অ্যান্ড বিউটি পার্লারের এক কোটি ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ১১০ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। ১৭ আগস্ট ঢাকার কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের সুরিয়া ট্রেড সেন্টারের বেহি ভিশন কেয়ারের পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৮৩০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেন ১৯ লাখ এক হাজার ৮৫৭ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৭ টাকা। ২৫ আগস্ট কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের গ্রিন লাউঞ্জ নামের প্রতিষ্ঠানটির ১৮ কোটি ১৯ লাখ আট হাজার ৪৮৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দারা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেন পাঁচ কোটি ৭১ লাখ ২২৯ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৭১৫ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা