kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাজারের ফর্দে পেঁয়াজ রাখছেন না অনেকেই

রোকন মাহমুদ   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজারের ফর্দে পেঁয়াজ রাখছেন না অনেকেই

সপ্তাহখানেক আগেও নিম্ন আয়ের একজন ক্রেতা ১০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলে ৪৫ টাকায় এক কেজি চাল কেনার পরও ১৮ টাকায় আধা কেজি পেঁয়াজ, ২০ টাকায় আড়াই শ গ্রাম ডাল এবং বাকি ১৭ টাকায় আড়াই শ মিলিলিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারতেন, যা ছোট একটি পরিবারের প্রায় দুই দিন চলত। কিন্তু এখন সেই হিসাব একেবারেই অমূলক। বাজারের তালিকায় পেঁয়াজ থাকলে এক কেজি চাল ছাড়া কিছুই কেনা যাচ্ছে না।

মুগদার পোশাক শ্রমিক আমেনা খাতুন তাই বাধ্য হয়ে বাজারের তালিকা থেকে পেঁয়াজ বাদই দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মুগদা বাজারে দাঁড়িয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলছিলেন, ‘চাল ডাল তেল পেঁয়াজ—সবই দরকারি জিনিস। চাল ডাল তেল না হলে খাওয়া হয় না। তবে পেঁয়াজের যে দাম, কিনতে গেলে সব টাকা শেষ হয়ে যায়। তাই বাদ দিয়েছি।’

তবে তালিকা থেকে একেবারে বাদ না দিয়ে সব পণ্যই কমিয়ে নিয়েছেন ওই বাজারেরই আরেক ক্রেতা মাহমুদুর হাসান। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই চাকুরে বলছিলেন, ‘খেতে তো হবেই। তবে আগে যতটুকু দিয়ে সংসার চলত, এখন ততটুকু কিনতে পারছি না। সব কিছুরই দাম বাড়তি। তার ওপর পেঁয়াজের দাম হঠাৎ ১০০ টাকা হয়ে গেছে।’

বাজারের ফর্দ এলোমেলো করে দিয়েছে দেশের পেঁয়াজের সিন্ডিকেট। ভারত থেকে আসা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় দাম বাড়িয়ে দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ আড়ত, পাইকারি বাজার, খুচরা বাজার—কোথাও পেঁয়াজের ঘাটতি নেই। মূল্যবৃদ্ধির এই দায় কিছুটা ভোক্তার ঘাড়েও দিলেন শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়ত রাজ ট্রেডার্সের বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, ‘ক্রেতারা হুলুস্থুল করে না কিনলে দাম হঠাৎ না বেড়ে ধীরে ধীরে বাড়ত।’

মঙ্গলবারের সেই আতঙ্কের কেনাকাটা অবশ্য গতকাল দেখা যায়নি। করোনায় আয় কমে যাওয়া ভোক্তা এখন পণ্য কিনছেন খুব হিসাব করে। খুচরা বাজারগুলো ঘুরে আধা ঘণ্টায় এক কেজি পেঁয়াজও বিক্রি করতে দেখা যায়নি অনেক দোকানে। দামও আর বাড়েনি। মুগদা, মালিবাগ, গোপীবাগ, সেগুনবাগিচাসহ খুচরা বাজারগুলোতে দেশি হাইব্রিড ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। কিছুটা নিম্নমানের পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি, আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা কেজি।

পেঁয়াজের সঙ্গে চড়া আদার বাজারও। সব ধরনের আদার কেজিই খুচরা বাজারে ১৬০ টাকার ওপরে। চীন থেকে আমদানি করা আদা কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকার বেশি দামে। আর রসুন ৯০ টাকা কেজি।

পেঁয়াজ বাদ দিলেও ভোক্তা যে এখনো খুব স্বস্তিতে কেনাকাটা করছেন, তা কিন্তু নয়। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ছাড়া বাকি সব পণ্যের দামই বেশি। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, আলু ও শাক-সবজি—কোনো কিছুর দামই কমেনি।

বাজারে এখন ৪২ টাকার নিচে কোনো চালই নেই। ভালো মানের মিনিকেট, নাজিরশাইল চাল কিনতে লাগছে কেজিতে ৫৬ থেকে ৬৪ টাকা। মোটা মসুর ডাল ৭০-৭৫ টাকা কেজি, দেশি ছোট দানার মসুর ডাল ১২০ টাকা।

যদিও চলতি সপ্তাহে পেঁপে, পটোল, কচুমুখিসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমে ৬০ টাকা বা তার নিচে নেমেছে। কিন্তু এখন করলা, বরবটি, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজির দামই প্রতি কেজি ৬০ টাকার ওপরে।

গতকাল বাজার ঘুরে ২০টি সবজির দাম বিশ্লেষণ করে সাতটির দাম দেখা গেল ৬০ টাকার নিচে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। পটোল ৪০-৫০ টাকা কেজি। বাকিগুলো ৬০ টাকার ওপরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম টমেটোর, ১১০-১২০ টাকা কেজি। বেগুন ৬০-৮০ টাকা এবং বরবটি ৭০-৮০ টাকা কেজি। এ ছাড়া কাঁচা মরিচের দাম আগের মতোই ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। আলুর দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৩৬ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে আলু পাওয়া গেলেও চলতি সপ্তাহে ৪০ টাকার নিচে কোনো আলুই কেনা যাচ্ছে না।

ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা কমেছে। গতকাল মুগদা বাজারে খুচরায় ১১০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম আগের বাড়তি দাম ১১০ টাকা ডজন দরেই বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের হাঁসের ডিম কিনতে লাগছে ১৫০ টাকা। গরুর মাংসের দামও কিছুটা কমেছে। এখন ৫৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

মন্তব্য