kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

স্বাস্থ্যবিধি গোল্লায়, চেনা রূপে রেল

আরো ৩৬ লোকাল ও মেইল ট্রেন চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধি গোল্লায়, চেনা রূপে রেল

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হলেও কার্যত সেটা শিকেয় উঠেছে। মাস্কহীন যাত্রী এবং হৈ-হুল্লোড় করে ট্রেনে চড়ছে সবাই। গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস থেকে তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চললেও সেবার পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ছে শৃঙ্খলা। আগের মতো সেই হুড়াহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হলেও কার্যত সেটা শিকেয় উঠেছে। মাস্কহীন যাত্রী এবং হৈ-হুল্লোড় করে ট্রেনে চড়ছে সবাই। কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় ট্রেনযাত্রায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

গতকাল কমলাপুর স্টেশনে ঘুরে এমন ছবিই দেখা গেছে। যাত্রীর হাতে টিকিট আছে কি না, রেল কর্মকর্তারা সে বিষয়ে জোর দিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা কিংবা মাস্ক পরতে সচেতন করার বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের জায়গা নির্দিষ্ট করা হলেও কেউই সেটা মানছে না। সবাই ভিড় করছে কাউন্টারের মুখে।

মহামারি পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হতে চলায় পুরোদমে চলছে ট্রেন। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি থাকার পরও দূর-দূরান্তে ছুটছে মানুষ। যাত্রা সহজ করতে দফায় দফায় চালু করা হচ্ছে বন্ধ থাকা ট্রেন। সব চালু না হলেও বর্তমানে সারা দেশে ২১৮টি ট্রেন চলছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯১ জোড়া বা ১৮২টি ট্রেন চললেও গতকাল বুধবার আরো ১৮ জোড়া বা ৩৬টি ট্রেন চালু হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে গত ২৫ মার্চ সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়। প্রায় দুই মাস সাধারণ ছুটি শেষ হলে ৩১ মে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ধাপে ধাপে বাড়ছে ট্রেন। আগস্টে সব আন্ত নগর চালু হলেও সেপ্টেম্বরে লোকাল, মেইল ট্রেন চালু করা হয়েছে।

জানা যায়, সংক্রমণ ঠেকাতে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ধারণক্ষমতার অর্ধেক টিকিট বিক্রি করেছে রেলওয়ে। একটি আসনের পাশে একটি ফাঁকা রেখে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। অন্যান্য গণপরিবহন স্বাভাবিক নিয়মে চলতে শুরু করায় অর্ধেক টিকিট বিক্রি থেকে সরে এসে এখন শতভাগ আসনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে টিকিট চেক করে যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট না থাকলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের প্রবেশপথে দুটি বোতলে স্যানিটাইজার রাখা থাকলেও কাউকে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। অনেক যাত্রী মাস্ক ছাড়া প্ল্যাটফর্মে ঢুকলেও কাউকে সচেতন করতে দেখা যায়নি।

কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস বিকেল সোয়া ৩টায় ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে আসে। ট্রেনের প্রতিটি আসনেই ছিল যাত্রী। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হুড়াহুড়ি করে উঠল যাত্রীরা। কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ার পর ছেড়ে যায় সিল্ক সিটি।

রাজশাহীগামী যাত্রী আব্দুর রহিম বলেন, ‘কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অনেকে মাস্ক না পরলেও কেউ কিছু বলছে না। বিষয়টি ভালোভাবে দেখা উচিত, তা না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছে।’

কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারোয়ার বলেন, ‘ট্রেনে ধারণক্ষমতার শতভাগ আসন উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি আসনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা