kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এগিয়ে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এগিয়ে বাংলাদেশ

শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স সাফল্যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। একই সঙ্গে কাটছে করোনা মহামারি সংকট। ফলে আশা করা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে ৬.৮ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) ২০২০’ আপডেটে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস সংক্রমণকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ধরে এডিবি বলছে, মহামারি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে, তা গতি হারাবে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদনের গতি বাড়ায় এবং রপ্তানি পণ্যের ক্রেতা দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু রপ্তানি বাজারে করোনা দীর্ঘায়িত হলে ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব না-ও হতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, ছয় দশকের মধ্যে এ বছরই প্রথম উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হবে। তবে করোনায় এ অঞ্চলে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে, দেশগুলো তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। পুরোপুরি পুনরুদ্ধার শুরু হবে আগামী বছর। এ বছর উন্নয়নশীল এশিয়ার প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হবে ০.৭ শতাংশ। তবে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ। এডিবি জানায়, এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হবে এল শেপ।

এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুকি সাওয়াদা বলেন, ‘২০২০ সালের বাকি সময়ে এশিয়ার বেশির ভাগ দেশেরই প্রবৃদ্ধির পথ হবে কণ্টকাকীর্ণ। এমনকি দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ আবারও লকডাউনের মতো পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে, যা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করে দেবে।’

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ বলেন, ‘মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। মহামারি ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপুল চাপের পরও যথাযথ প্রণোদনা ঘোষণা এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়িয়ে এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা নিয়ে সরকার অর্থনীতিকে ভালোই সামাল দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উন্নতি দেখে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি।’

করোনাভাইরাসের টিকা যদি আগে পাওয়া যায় এবং মহামারিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর দেওয়া গুরুত্ব যদি অব্যাহত রাখা হয়, তাহলে তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের এই ধারা টেকসই করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর। এডিবি জানায়, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতিকে ৫.৫ শতাংশে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতিকে জিডিপির ১.১ শতাংশের মধ্যে রাখতে পারবে।

এডিবির হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ২০২১ সালে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮, আফগানিস্তানের ১.৫, ভুটানের ১.৭, মালদ্বীপের ১০.৫, নেপালের ১.৫, পাকিস্তানের ২ এবং শ্রীলঙ্কার ৪.১ শতাংশ। এ ছাড়া চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৭ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা