kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

ব্লক তৈরিতে ঋণ মিলছে না

শাখাওয়াত হোসাইন    

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্লক তৈরিতে ঋণ মিলছে না

কংক্রিট ব্লক খাতে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ দেখান কিশোরগঞ্জের তরুণ সুমন দেবনাথ। ২০১৮ সালে ব্লক তৈরির প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটিও আয়ত্ত করেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) থেকে। এরপর ভাই ও বোনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নিয়ে নিজ এলাকায় সনাতন পদ্ধতিতে ব্লক তৈরির মেশিন তৈরি করেন তিনি। এক বছর কাজ করার পর এখন ব্যবসা বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। বর্তমানে আটজন শ্রমিক নিয়ে দৈনিক ৪০০ ব্লক তৈরি করতে পারেন সুমন। কিন্তু ব্যবসা বড় করার জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি কেনার দরকার পড়লেও অর্থের অভাবে তা করতে পারছেন না। বেশ কয়েকটি ব্যাংকে যোগাযোগ করেও অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না তিনি।

সুমন ইকো ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী সুমন দেবনাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই ব্যবসায় আসার পর শুধু ধু ধু মরুভূমি দেখতাম, কিন্তু এখন আশার আলো দেখছি। একটি ছয়তলা ভবনের কাজ করছি নিজের তৈরি ব্লক দিয়ে, কিন্তু কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছি না। ঋণ পেলে উন্নত মানের মেশিন কিনে ব্যবসা বড় করতে পারতাম।’

সুমনের মতো এমন আকাঙ্ক্ষা আরো অনেকের। এইচবিআরআই উদ্যোক্তা তৈরি করছে, কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে পারছে না। এই ব্লক ব্যবসা সম্পর্কে কম জানার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ঋণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এর ফলে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না অনেকে। ব্লক ব্যবসায় সফলতা পাওয়ার পরও কারখানা বড় করার জন্য ব্যাংকের সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মুন্সীগঞ্জের টাইগার কংক্রিট ব্লক ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী তৌফিকুল ইসলাম শরীফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথমে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ভেতরে আমার ফ্যাক্টরি ছিল, কিন্তু সেখানে পৌরসভার লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফিরিঙ্গীবাজার এলাকায় নদীর পারে ব্যবসা শুরু করেছি। এই ব্যবসা খুব সম্ভাবনাময়, কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। এটা একটা জটিলতা।’

এইচবিআরআই সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে সনাতন ইটভাটা বন্ধ করতে হলে ব্লক খাতে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। কিন্তু উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ এখনো করা যায়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এ ব্যাপারে একাধিকবার কথা হয়েছে। এ ছাড়া ব্লক তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কর মওকুফের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে রয়েছে। খুব শিগগির কর মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। ব্লক ব্যবসায় বিনিয়োগ করার জন্য অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ইডকলের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি কোনো প্রতিষ্ঠানকে।

এইচবিআরআইয়ের প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার মো. আকতার হোসেন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা সত্য যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। আবার মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যবসা বড় করার জন্য ব্যাংক থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তবে আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সনাতন ইটভাটার বিকল্প হিসেবে অটো ইটভাটা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। ব্লকশিল্প বিকাশে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকও এ ব্যাপারে ভাববে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন এবং ব্যবহারের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশও সে বিষয়ে চিন্তা করছে। অটো ভাটার ক্ষেত্রে আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া শুরু করেছি। সম্ভাবনাময় ব্লকশিল্পে অর্থায়নের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা