kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অন্যের সন্তান চুরি করে মা হওয়ার চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্যের সন্তান চুরি করে মা হওয়ার চেষ্টা!

উদ্ধার হওয়ার পর ওসির কোলে শিশু মোনতাসির

আলতাফ হাসান মাহি ওরফে মোনতাসিরের বয়স মাত্র চার মাস। পৃথিবী বলতে মা-বাবার সান্নিধ্যটুকুই বোঝে। সেই শিশুটিই হয়েছে অন্যের লোভের শিকার। সন্তানকে পূর্বপরিচিত এক নারীর কোলে দিয়ে মেহমানকে নাশতা দেওয়ার জন্য মা গিয়েছেন রান্নাঘরে, সেই মেহমানরূপী নারীই অপহরণ করে শিশু মোনতাসিরকে।

শিশু অপহরণের এই ঘটনার নেপথ্যে আছে মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার আরেক গল্প। অপহরণকারী ওই নারীর বিয়ের ছয় বছরেও কোলে সন্তান আসেনি। তাই অন্যের সন্তান চুরি করে মাতৃত্বের স্বাদ পূরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি ধরা পড়ে কারাগারে গেছেন। অপহরণের চার ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার ঘাসিয়াপাড়ায় গত রবিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাঘটে। স্থানীয় আনোয়ার হোসেন মুরাদের ঘরে বেড়াতে আসেন পূর্বপরিচিত ফরিদা আক্তার (২২)। মুরাদের স্ত্রী কামরুন নাহার পুতুল ফরিদাকে নাশতা দেওয়ার জন্য রান্নাঘরে যান। আর এই ফাঁকে তাঁর সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান ফরিদা বেগম। আর রান্নাঘর থেকে ফিরে ড্রয়িংরুমে ফরিদা এবং নিজের সন্তানকে না দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন কামরুন নাহার। এরপর তারা চকবাজার থানায় এসে অভিযোগ করেন।

এদিকে মোনতাসিরকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কামরম্নন। পরে তারা থানায় এসে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাত্ক্ষণিক তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চান্দগাঁও থানার খাজা রোড খালাসী পুকুরপাড়ে শাহজাহান কলোনির বাবুলের বাসা থেকে ফরিদাকে গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে শিশুকে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কামরুন নাহার  বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গতকাল সোমবার ফরিদা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চকবাজার থানার ওসি রুহুল আমীন কালের কণ্ঠকে বলেন, মুরাদ-কামরুন দম্পতির বিয়ের সাত বছর পর মোনতাসিরের জন্ম। প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হলেও ফরিদা এখনো নিঃসন্তান। এ কারণে ফরিদা পরিকল্পনা করেই কামরুনের সন্তান অপহরণ করেন। ভাইকে বাসার বাইরে রেখে ফরিদা একাই কামরুনের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে এসে ভাইয়ের কোলে তুলে দেন। এরপর ফরিদার ভাই শিশুটিকে নিয়ে অটোরিকশায় দ্রুত ফরিদার বাসায় পৌঁছেন। আর ফরিদা একা অন্য গাড়িতে বাসায় ফেরেন।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদা জানিয়েছেন যে সন্তানের আকাঙ্ক্ষ পূরণ করতেই তিনি এ কাজ করেছেন।

মন্তব্য