kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পেঁয়াজের বাজারে‘সেপ্টেম্বর’ আতঙ্ক

রোকন মাহমুদ   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেঁয়াজের বাজারে‘সেপ্টেম্বর’ আতঙ্ক

গত বছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভারতের বাজারে দাম বাড়ার খবরে দেশের বাজারেও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৪৫ টাকা কেজির দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আমদানি করা ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। ফলে আতঙ্কিত ভোক্তাসাধারণ। অনেকে হুজুগে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ কিনে জমা করছেন। গত বছরও সেপ্টেম্বর থেকে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। ৩০০ টাকা কেজির পেঁয়াজ খাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো ভোলেননি অনেকে। তবে গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তৎপর রয়েছে মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত রবিবার একটি বৈঠকও করা হয়েছে। বৈঠকে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজ আমদানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্কহার পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

গতকাল মুগদা, মালিবাগ, গোপীবাগসহ খুচরা বাজারগুলোয় দেখা গেছে, অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনছেন। বিক্রেতারা জানান, অনেকে তাঁদের কাছে অগ্রিম চাহিদা জানিয়ে রেখেছেন। সে অনুসারে তাঁরা পাঁচ থেকে সাত কেজির প্যাকেট করে রেখেছেন।

গোপীবাগ বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের মধ্যবিত্তের সমস্যা; দাম একটু বাড়লেই বাজেটে চাপ পড়ে। এরই মধ্যে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। গত বছরের মতো দেড় শ-দুই শ টাকা হলে কী যে হবে! তাই বেশি করে কিনে রাখছি।’

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা রবিউল বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। অনেক ক্রেতা বেশি করে কিনছেন। অনেকে পাঁচ থেকে সাত কেজি করে অর্ডার দিয়ে রাখছেন। আমাদেরও আনতে হচ্ছে বেশি করে।’ গত বছর দেশে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ভারত থেকে পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

এবারও পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে। শেষ পর্যন্ত দাম কোথায় দিয়ে ঠেকে তা নিয়ে শঙ্কিত ক্রেতাসাধারণ। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী অক্টোবরেই ভারতে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। ফলে বাজার অস্থির হওয়ার সুযোগ নেই।

গত রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক হয়। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, আমদানিও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে পেঁয়াজের সংকট বা দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। অবৈধ মজুদ কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা করোনা উপলক্ষে প্রতি মাসেই খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করছি। এ মাসে বিক্রি শুরু হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। নিয়মিত পণ্য তেল, চিনি, ডালের সঙ্গে পেঁয়াজও বিক্রি করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা