kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রংপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা

প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ

রংপুর অফিস   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




রংপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা

ধর্ষণের অভিযোগ তুলে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক স্কুল শিক্ষিকা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, ভুয়া কাজী অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে প্রতারণা করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে আপত্তি তুলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষে গতকাল রবিবার দুপুরে দুই দফা কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে এ বিক্ষোভ করেন। তাঁরা বলছেন, মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েঘটিত একটি ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি রনির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমরাও একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম, সেটা নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ করছি।’ ছাত্রলীগের বিক্ষোভের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কোতোয়ালি থানার ওসি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ গতকাল জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বাদী স্কুল শিক্ষিকাকে থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এর পর থেকে তাঁদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রনি তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় কাজের কথা বলে ১৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। এর পরও বিয়ে করার কথা বললে টালবাহানা শুরু করেন রনি। পরে তাঁর বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের চাপে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল তাঁকে নীলফামারীতে বিয়ে করতে নিয়ে যান। সেখানে নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজল কুমারের বাসায় নিয়ে ভুয়া কাজি এনে বিয়ে রেজিস্ট্রি করানো হয়। বিয়ের পর তাঁকে রনির বাবার বাড়িতে নিয়ে যেতে বললে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন রনি। এর মধ্যে রনি ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় আর ছাত্রলীগ করা হয়তো সম্ভব হবে না। সে কারণে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ২০ লাখ টাকা দরকার। সেই টাকা তাঁকে জোগাড় করে দিতে চাপ দেন রনি। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেন।

এদিকে রনিকে বিয়ের জন্য আবার চাপ সৃষ্টি করলে গত ৫ জুন রনি তাঁদের (শিক্ষিকা) রংপুর নগরের কেরানীপাড়ার বাসায় আসেন এবং রাত্রিযাপনসহ তাঁকে ধর্ষণ করেন। কথা দেন, তাঁকে স্ত্রীর অধিকার দিয়ে তাঁর (রনির) বাসায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু পরে রনি তাঁকে সরে যেতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। গত ১২ জুলাই নগরের গনেশপুর ক্লাব মোড় এলাকায় রনি তাঁর ফুফুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান স্কুল শিক্ষিকাকে। সেখানে রনি তাঁর সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রি কিংবা কাবিননামা সম্পাদিত হয়নি বলে দাবি করেন। এরপর তাঁর সহযোগীদের দিয়ে শিক্ষিকাকে সেখান থেকে বের করে দেন।

স্কুল শিক্ষিকা পুরো বিষয়ে লিখিত আবেদন নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করলে তাঁকে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়। বাধ্য হয়ে থানায় গিয়ে লিখিত এজাহার দেন বলে জানান ওই শিক্ষিকা।

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, স্কুল শিক্ষিকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা 

এদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সকালে কিশোরীটি বিয়ের দাবি নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান নেয়। নওগাঁর রাণীনগরে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তার মা থানায় মামলা করেছেন।

সুন্দরগঞ্জে ধর্ষণে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম (৪০) উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাসিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে। ধর্ষণ ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আনোয়ারুলের বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। অভিযোগ মতে, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারুল অসহায় কিশোরীটিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন। শনিবার সকালে কিশোরীটি বিয়ের দাবি নিয়ে আনোয়ারুলের বাড়িতে অবস্থান নিলে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। পরে ধুবনি তদন্তকেন্দ্রের এসআই রাজেন্দ্র মোহন চাকি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার এবং বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এর ফাঁকে আনোয়ারুল সটকে পড়েন।

এলাকাবাসী জানায়, আনোয়ারুল একজন প্রতারক ও মাদক কারবারি। এর আগে তিনি দুটি মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের পর বিয়ে করে তাঁদের তালাক দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর এক স্ত্রী রয়েছে। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নিমাই ভট্টাচার্য্য জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গতকাল কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলায় শনিবার সন্ধ্যার ঘটনায় অভিযুক্তের নাম মুকুল (৩৫)। তিনি উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চকাদিন গ্রামের তফিকের ছেলে। গতকাল দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মুকুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনাটি উপজেলার খট্রেশ্বর পশ্চিমপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, মেয়েটিকে মুকুল প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি পূর্বপরিকল্পনা মতো মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে মুকুল পালিয়ে যান।

রাণীনগর থানার ওসি জহুরুল হক জানান, মুকুল গাঢাকা দেওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র রংপুর অফিস এবং সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) ও রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা