kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নরসিংদীতে ওসির বিরুদ্ধে মামলা

ক্রসফায়ারের হুমকি টাকা নিয়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রসফায়ারের হুমকি টাকা নিয়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রায় তিন মাস আগে করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি চলার সময় মারধর, ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় এবং অন্য মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে নরসিংদীর একটি থানার ওসিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। গতকাল রবিবার মামলাটি করা হয়েছে জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত র‌্যাব-১১-কে তদন্ত করে আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

আসামিরা হলেন নরসিংদী মডেল থানার সাবেক ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান (বর্তমানে মাধবদী থানার ওসি), উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক ও তাঁদের সোর্স শহরের বানিয়াছল এলাকার সবুজ মিয়া।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী বানিয়াছল বটতলা বাজারের আসবাব ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির মুন্সী অভিযোগ করেছেন যে গত ২১ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর ছেলে মো. আতিককে দোকানে বসিয়ে বাইরে যান তিনি। তখন নরসিংদী মডেল থানার এসআই মোস্তাক ও তাঁর সোর্স সবুজ বটতলা বাজারে আসেন। সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখার অপরাধে এসআই মোস্তাক আতিক ছাড়াও বাজারের ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া, সাফায়েত মিয়া, মানিক মিয়া, রুবেল মিয়া ও শাহাদত হোসেনকে মারধর করতে করতে থানায় নিয়ে যান। পরে তাঁর ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে থানা থেকে সোর্স সবুজের মাধ্যমে খবর পাঠানো হয়।

বাদীর অভিযোগ, তিনি থানায় গিয়ে দেখতে পান আটক হওয়া ব্যবসায়ীরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি ওসি ও এসআইকে অনুরোধ জানান তাঁর ছেলে আতিককে ছেড়ে দিতে। কিন্তু তাঁরা তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। নতুবা ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেন। এমন অবস্থায় ৫০ হাজার টাকা দিলেও ওসি ও এসআই বাকি টাকার জন্য তাঁর সামনেই ছেলেকে নির্যাতন করেন। এরপর বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থানায় গেলেও আতিককে ছাড়েননি তাঁরা। পরদিন সকালে একটি পুরনো ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

হুমায়ুন কবির মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ও আমার ছেলের বিরুদ্ধে এর আগে কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত হয়নি। ওসি সৈয়দুজ্জামান ও এসআই মোস্তাক দুই লাখ টাকা চাইছিলেন। আমি এসআই মোস্তাক ও তাঁর সোর্স সবুজের কাছে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি।’ তিনি জানান, তাঁর ছেলে ২১ দিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনিসহ এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের প্রস্তুতি নিলে এসআই মোস্তাক তাঁর ছেলেকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেন। পরে ওই ডাকাতির প্রস্তুতির মামলার অভিযোগপত্রে আতিককে আসামি করেন। কিন্তু ওই মামলার এজাহার কিংবা অন্য আসামিদের কেউ তাঁর ছেলের জড়িত থাকার কথা বলেননি।

এ ব্যাপারে ওসি সৈয়দুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি। আর কোন ঘটনায় মামলা হয়েছে সেটা খেয়াল করতে পারছি না। কত ঘটনাই তো থাকতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা