kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিং

কোকোর ঘুষকাণ্ডও চীনা দুর্নীতির দৃষ্টান্ত

মেহেদী হাসান   

২৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোকোর ঘুষকাণ্ডও চীনা দুর্নীতির দৃষ্টান্ত

ওয়াশিংটনে গত বুধবার টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিশেষ ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরের দুই কর্মকর্তা। ব্রিফিংয়ের বিষয় ছিল চীনা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য গত বুধবার সন্ধ্যায় ‘চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কম্পানির (সিসিসিসি)’ সাবসিডিয়ারিসহ চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৪টি প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করেছে। এসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে চীনা কম্পানির কাছ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ঘুষ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। আর বিষয়টি স্থান পেয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টেও।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণা ও দুর্নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ফিলিপাইনে মহাসড়কের কাজের জন্য দরপত্রে জালিয়াতির জন্য বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে সিসিসিসিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। মালয়েশিয়ায় আমরা বিগত বছরগুলোতে সিসিসিসির রেল প্রকল্প ও সিসিসিসি বেল্ট অ্যান্ড রোড ব্যবস্থার বিষয়ে নতুন করে পুনর্বিবেচনা নিয়ে বড় বিতর্ক, দুর্নীতির অভিযোগ ও সন্দেহ দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ায় বাংলাদেশে সিসিসিসির সাবসিডিয়ারি চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানিকে প্রকল্পগুলোর জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়া ৯ বছর আগে (২০১১ সালে) বাংলাদেশের আদালত একজন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানির ঘুষ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন। এরপর আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ গল্পের আড়ালে শ্রীলঙ্কায় হাম্বানটোটা বন্দর প্রকল্পের কাজ পেতে চায়না হারবারের দুর্নীতি ও ঘুষের পুরনো অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া তিনি কেনিয়ায়ও সিসিসিসির সাবসিডিয়ারি চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজের ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বিভিন্ন চর্চার কথাও উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, চীনা ওই কম্পানিগুলো চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করে। দক্ষিণ চীন সাগর, জিবুতি বন্দর ও অন্যান্য স্থানে এমনটি দেখা গেছে।

কোকোর ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের কথা এর আগেও বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৯ সালের ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারবিষয়ক দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘুষের প্রায় ৩০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সিমেন্স এজি এবং চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানিকে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এই ঘুষ লেনদেন হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের ঠিকাদার নিযুক্তির জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানির কাছ থেকে ঘুষ নেন। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কাজটি পেয়েছিল ২০০৫ সালে। ২০০৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় ২০১১ সালে আদালত কোকোকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন।

এর আগে অর্থপাচারের অভিযোগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই কোকো প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান। এরপর তিনি প্যারোলের শর্ত ভেঙে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। শর্ত ভাঙায় বাংলাদেশ সরকার প্যারোল বাতিল করলেও কোকো জীবিত অবস্থায় আর দেশে ফেরেননি। কোকো ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় মারা যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা