kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস আজ

আমৃত্যু গেয়েছিলেন মানবতার জয়গান। লিখেছিলেন ‘গাহি সাম্যের গান/মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান...’। দ্রোহ ও প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে যোগ করেছিলেন নতুন মাত্রা। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম। আমাদের জাতীয় কবি। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর ৪৪তম প্রয়াণবার্ষিকী। এই দিনে (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) ঢাকায় তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) ৭৭ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জাতি আজ পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করবে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে খ্যাত প্রিয় কবিকে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সব আনুষ্ঠানিক আয়োজন বন্ধ থাকলেও জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবসে কিছু আয়োজন থাকছে। কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। বাংলা একাডেমিও আয়োজন করেছে আলোচনা অনুষ্ঠানের।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। নির্মম দারিদ্র্য থেকে অসামান্য প্রতিভায় তিনি অভিষিক্ত হয়েছিলেন। আজীবন বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠের কারণে তিনি ভূষিত হন ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে। আজীবন সংগ্রাম করেছেন শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনি জীবনেও। সোচ্চার ছিলেন সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে। তরুণদের কাছে তিনি বিদ্রোহের অনন্ত প্রতীক। সংগীত, নাটক, ছোটগল্প, উপন্যাসসহ সাহিত্যের সব শাখায় অবদান রাখলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত। তাঁর লেখা গান বাংলা গানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। পরে তাঁকে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় একুশে পদক। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে।

কর্মসূচি : জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও আলোচনা। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলা একাডেমি আজ সকাল ১১টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনারকক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একক বক্তব্য দেবেন এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।

নজরুল ইনস্টিটিউট সকাল ১০টায় আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

মন্তব্য