kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলা

আহত ১০, অভিযোগ এমপি মোস্তাফিজের অনুসারীদের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলা

মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের অবস্থান কর্মসূচিতে এভাবেই হামলা চালানো হয়। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ডা. আশরাফ আলীর দাফন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সম্মান না দেওয়া এবং এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ড আয়োজিত এই মানববন্ধনে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার জন্য বাঁশখালীর সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। হামলায় মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, বাঁশখালী থানা কমান্ডার আবুল হাশেমসহ ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

আহত অন্যদের মধ্যে সাতকানিয়া থানা কমান্ডার আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা আজিমুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, মৌলভি সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল আবেদীন, জহির উদ্দীন বাবর, ইমরানুল ইসলাম তুহিন, আবু সাদাত মো. সায়েম, মোবাশ্বের হোসেন সোহান ও কামরুল হুদা পাভেলের নাম জানা গেছে। হামলায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদসহ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

হামলায় আহত মৌলভি সৈয়দের ভাতিজা ও দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা।

জানা গেছে, বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৌলভি সৈয়দ আহমদের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ডা. আশরাফ আলীর দাফন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়নি। এই দুটি ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ১১টায় মানববন্ধন শুরু হলে বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা সেখানে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে তারা মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও মৌলভি সৈয়দের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বলেন, ‘মৌলভি সৈয়দকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্বীকার করা এবং বাঁশখালীতে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি—বাঁশখালীর এমপির এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন চলাকালে কয়েকটি গাড়ি ভর্তি লোক এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী। এতে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়েছেন।’ 

প্রত্যক্ষদর্শী রমিজ উদ্দিন কানন জানান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলাকালে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হকের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। হামলায় মৌলভি সৈয়দ আহমদের ভাতিজা জহির উদ্দীন বাবর, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য আবু সাদাত সায়েম প্রমুখ আহত হয়েছেন।

হামলার ঘটনার পর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে জামালখানে তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, নুরুল আজিম রনিসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে কমান্ডার মোজাফফর আহমদ মোস্তাফিজুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সব পদ ও সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা