kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ড

হিজবুল্লাহর সদস্য দোষী সাব্যস্ত

সংগঠনের নেতৃত্ব বা সিরিয়া জড়িত নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিজবুল্লাহর সদস্য দোষী সাব্যস্ত

লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক আল হারিরি হত্যাকাণ্ডের দায়ে দেশটির শিয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক সদস্য দোষী প্রমাণিত হয়েছে। জাতিসংঘ সমর্থিত একটি আদালত গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। তবে এই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিচারক আরো বলেন, ১৫ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডে সিরিয়ার সরকার সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল সে রকম প্রমাণও নেই।

২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরিসহ আরো ২১ জন এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় ২২০ জন আহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় নেদারল্যান্ডসে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চার ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাঁরা হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর নিচের সারির সদস্য। তাঁদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি। হিজবুল্লাহ, তাদের এই চার সদস্য এবং সিরিয়া সবাই এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। যদিও এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিরিয়া লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। ৩০ বছর ধরে সিরিয়ার সেনারা লেবাননে অবস্থান করছিল।

নেদারল্যান্ডসের আদালত গতকাল সেলিম আয়াশ (৫৬) নামের এক হিজবুল্লাহ সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারক প্যানেলের সভাপতি ডেভিড রে বলেন, ‘এই হামলার জন্য আয়াশকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। তাঁর শাস্তির মেয়াদ পরে ঘোষণা করা হবে। আয়াশ ছাড়াও আসাদ সাব্রা (৪৩), হুসেইন ওনেইস (৪৬) এবং হাসান হাবিবের (৫৪) বিরুদ্ধে হারিরি হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তবে এই তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁরা চারজনই এখনো পলাতক।

এই হত্যাকাণ্ড লেবাননের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। রফিক হারিরির ছেলে সাদ হারিরির নেতৃত্বে সিরিয়াবিরোধী এবং পশ্চিমাপন্থী দল আত্মপ্রকাশ করে। সাদ দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। গতকাল রায় ঘোষণার সময় সাদও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি তাঁর পরিবার এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের রায় গ্রহণ করেছেন।

রফিক হারিরি ছিলেন লেবাননের অন্যতম প্রভাবশালী সুন্নি রাজনীতিক। তাঁর হত্যার পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সিরিয়াপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। সরকার দুই সপ্তাহ পর পদত্যাগ করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর জাতিসংঘ এবং লেবাননের সরকার ২০০৭ সালে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এই বিচারের লক্ষ্য ছিল ওই বোমা হামলার তদন্ত এবং চারজন সন্দেহভাজনকে তদন্ত শেষে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা। পঞ্চম সন্দেহভাজন ছিলেন হিজবুল্লাহর সামরিক অধিনায়ক মুস্তাফা আমিন বদর-এদ্দীন। ২০১৬ সালে সিরিয়ায় তিনি নিহত হওয়ার পর তাঁর নাম অভিযোগ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

৮ আগস্ট এই মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈরুতের বন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর রায় পিছিয়ে দেওয়া হয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা