kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জেএইচএম ইন্টারন্যাশনালের তিন ভাইয়ের কীর্তি

এবার দেশ থেকেও অর্থপাচারের ছক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার দেশ থেকেও অর্থপাচারের ছক

জাহাঙ্গীর আলম, হুমায়ুন কবির ও মেহেদী হাসান। ভারতীয় নাগরিক এই তিন ভাই জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কর্ণধার। পণ্য রপ্তানির নামে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে এই তিন সহোদর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এখন কালো তালিকাভুক্ত। এর আগে জালিয়াতির অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন এক ভাই। সে সময় অন্য দুই ভাই পালিয়ে বেড়িয়েছেন। সেই জালিয়াত তিন ভাইয়ের জেএইচএম কম্পানির বিরুদ্ধে এবার বাংলাদেশ থেকেও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। তারা দুবাইসহ অন্য দেশ থেকে পাথর ও বিভিন্ন উপকরণ বাংলাদেশে এনে বিক্রি করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা বিভাগও নড়েচড়ে বসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মেহেদী হাসান, পরিচালক পদে আছেন জাহাঙ্গীর আলম ও হুমায়ুন কবির। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের গোরশালা এলাকায় তাঁদের জন্ম। এই তিন ভাই ১৯৯৭ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ২৭/২ শান্তিনগর, রমনা ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নেন। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করেন। বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তিন ভাই ভারতে ব্যবসার আড়ালে অর্থপাচার এবং শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত। সেই দেশটির গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে একাধিকবার মামলাও করে। ওই ঘটনায় মেহেদী হাসান নামের এক ভাই গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।’

এদিকে বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সঙ্গে আঁতাত করে বিদেশ থেকে আমদানির নামে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার গত ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিদেশি এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টের (ফেমা) বিধান অনুযায়ী অবৈধ কারবারের বিভিন্ন তথ্য- উপাত্ত পেতে জেএইচএম গ্রুপের তিন ভাই জাহাঙ্গীর আলম, হুমায়ুন কবির ও মেহেদী হাসানের কলকাতার বাসা এবং অফিসসহ বিভিন্ন গোডাউনে অভিযান চালানো হয়।  তাঁদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কলকাতার কুখ্যাত হাওড়া অপারেটর মোহাম্মদ এনামুল হক এবং অন্যান্য কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই সময় কলকাতার বেন্টিক স্ট্রিট, আটঘর, এম জি রোড, ঠাকুর রোড, ক্লাইভ রোডসহ একযোগে ১২ স্থানে অনুসন্ধান চালায় গোয়েন্দাদল। এই তিন ভাই অ্যাকাউন্টবিহীন লেনদেন করতেন। জড়িত রয়েছেন বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে। ভারতের ওই গণ্যমাধ্যমে আরো বলা হয়, দুবাই ও বাংলাদেশভিত্তিক কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে অবৈধ এসব কাজ করে যাচ্ছে তিন ভাইসহ একটি সিন্ডিকেট।

ভারতের আরেকটি গণমাধ্যমে বলা হয়, দেশটির শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ডিরেক্টর অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) জেএইচএমের মালিক তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে হাতে পেয়েছে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দামি জামাকাপড় কলকাতা থেকে চেন্নাই হয়ে দুবাই পাঠানোর নামে দেওয়া হয় কম দামি কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিস। গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে, কাগজে-কলমে দামি জামাকাপড় দেখিয়ে তাঁরা রপ্তানি করেন সস্তা কাপড়। যে দাম নথিতে দেখানো হয়েছে তার চেয়ে আসল দাম ছিল ৫০ গুণ কম। এভাবেই তাঁরা ভারত থেকে দুবাইয়ে অর্থপাচার করে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রপ্তানি কাগজ দেখিয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট ও ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা এবং ২০১৭ সালে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই গণ্যমাধ্যমে বলা হয়, দুবাই বন্দরে যখন তাঁদের মালপত্র পৌঁছে তখনই তাঁরা আসল দাম ঘোষণা করেন। কিন্তু চেন্নাই থেকে রপ্তানির সময়ে তাঁরা ৫০ গুণ বেশি দাম ঘোষণা করে দেশটির সরকারের কাছ থেকে কর ছাড়ের সুবিধা নিয়েছেন। পরে ডিআরআই ওই ঘটনার  তদন্তে নেমে মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারও করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা