kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন

গগলস পিপিই কেনার অনিয়ম খুঁজবে তদন্তদল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গগলস পিপিই কেনার অনিয়ম খুঁজবে তদন্তদল

করোনা মোকাবেলায় বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) টাকায় গগলস, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম বের করতে এবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (পরিকল্পনা) হেলাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পরিকল্পনা কমিশনের স্বাস্থ্য শাখার যুগ্ম প্রধান ডা. মহিউদ্দিন ওসমানী, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) স্বাস্থ্য শাখার পরিচালক কাজী দেলোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপপ্রধান হুজুর আলী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্রয় ও সংগ্রহ অধিশাখার উপসচিব হাসান মাহমুদ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান ইব্রাহীম খলিল।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে গত ৩০ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, করোনা মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নে দুটি প্রকল্পে প্রকৃত বাজারমূল্য থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়ে গত ৪ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হলো। কমিটিকে এই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কমিটির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নে নেওয়া দুটি প্রকল্প কিভাবে তৈরি করা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় পিপিই, গগলসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সরঞ্জামের ব্যয় কিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে আমরা এসব দেখব। এসব স্বাস্থ্য সরঞ্জামের দাম ঠিক করার সময় বর্তমান বাজারমূল্য দেখা হয়েছে কি না, না দেখে থাকলে কোন প্রক্রিয়ায় দাম ধরা হয়েছে আমরা এসব তদন্ত করব।’

গত ৪ জুন কালের কণ্ঠ’র প্রথম পাতায় ‘৫০০ টাকার গগলস ৫০০০ টাকা, ২ হাজারের পিপিই ৪৭০০’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও। প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ২২ জুন দুটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. ইকবাল কবিরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নের প্রকল্পে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটার তথ্য-উপাত্ত চেয়ে একই দিন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পাঠানো সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

গঠিত কমিটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাঁরা প্রথমে প্রকল্পে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবেন। কিসের ওপর ভিত্তি করে ব্যয় ধরা হয়েছে, সেটিও দেখবেন। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, এসব দেখে প্রতিবেদন তৈরি করে দুদকে পাঠাবেন। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, ওয়েবসাইট ঘেঁটে স্বাস্থ্য সরঞ্জামের ব্যয় নির্ধারণ হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নে ওই দুটি প্রকল্পে গগলস, পিপিই ছাড়াও ইনোভেশন নামের আলাদা একটি খাত তৈরি করে সেখানে ৩৬ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়। মাত্র ৩০টি অডিও-ভিডিও ফিল্ম তৈরির খরচ দেখানো হয়েছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৮০টি সেমিনার ও কনফারেন্স করে খরচ ধরা হয়েছিল দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা। মাত্র চারটি ওয়েবসাইট উন্নয়ন করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খরচ দেখানো হয় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পাঁচটি ডাটাবেইস তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পাঁচটি কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনায় খরচ ধরা হয়েছিল ৫৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৩০টি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য খরচ হয়েছে আরো ৪৫ কোটি টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে এসব পণ্যের দামে কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা