kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

‘স্পুৎনিক-ভি’ শুধু রাশিয়ার নয়, যেন বিশ্বজয়ের আনন্দ

ডা. হাবিবুর রহমান শেখ, মস্কো (রাশিয়া) থেকে

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘স্পুৎনিক-ভি’ শুধু রাশিয়ার নয়, যেন বিশ্বজয়ের আনন্দ

রাশিয়ার মানুষের মধ্যে যেন অন্য রকম এক বিজয়ের উৎসব। করোনা মহামারি ঘিরে বিশ্বব্যাপী মানুষ যখন তাকিয়ে আছে বিপদ থেকে মুক্তির আশায়, ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারে যখন বহু দেশ কাজ করছে মরিয়া হয়ে, ঠিক তখনই সবার আগে বিশ্বকে নতুন এক আশার আলো দেখিয়ে রাশিয়া আবিষ্কার করে ফেলল করোনার ভ্যাকসিন ‘স্পুৎনিক-ভি’। যেন এটা শুধু রাশিয়ার বিজয়ই নয়, পুরো বিশ্বজয়ের এক আনন্দে ভাসছে রাশিয়াবাসী।

সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করেই রাশিয়ার কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই ভ্যাকসিন সর্বপ্রথম দেওয়া হবে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী ও ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের। সাধারণত যেকোনো ভ্যাকসিন তৈরিতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগে। কিন্তু রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন সব ধাপ পার করে কত দ্রুত এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করা যায়। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট যত দ্রুত সম্ভব সর্বাত্মকভাবে উৎপাদনের কথা বলেছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অক্টোবরের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করা যাবে। তিনি আশা করছেন, এ বছর শেষে সারা বিশ্বেই এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।

শুধু রাশিয়ান জনগণের নয়, আমরা যারা প্রবাসীরা আছি তাদের মধ্যেও এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বিষয়টি বেশ উৎসাহ জুগিয়েছে। আমরা আশায় আছি কবে নাগাদ এই ভ্যাকসিনের সুযোগ পাব সে জন্য। এ ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন সবার জন্য যখনই উন্মুক্ত হবে, তখন থেকে আর নিশ্চয়ই আমাদের লকডাউনের ঝুঁকিতে থাকতে হবে না। লকডাউন নিয়ে সবাই ভয়ে আছে। কারণ এখানকার জীবন-জীবিকা সব কিছুই নির্ভর করছে লকডাউনের ওপর। যদি সংক্রমণ আবার বেড়ে যায় কিংবা আরো কমানো না যায়, তবে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল, আবার হয়তো লকডাউন দেওয়া হতে পারে। তেমনটা হলে মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ জন্যই আমরা এই ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে আছি অধীর আগ্রহ নিয়ে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, রাশিয়ান সরকার ও বিজ্ঞানীরা আমাদের যে আশার আলো দেখিয়েছেন তা শেষ পর্যন্ত সত্য হবে। অর্থাৎ তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত যে সাফল্য এসেছে, সেটা অক্ষুণ্ন থাকবে বলেই সবাই বিশ্বাস করে। আপাতত সীমিত পরিসরে এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হলেও এটি সারা বিশ্বে মানুষকে করোনামুক্ত করতে কাজে আসবে বলেই সবার মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে। আমার নিজের সন্তানরাও এই ভ্যাকসিন নিয়ে খুব উত্তেজনা বোধ করছে। কারণ তারা গত ছয় মাসে মাত্র তিন দিনের জন্য বাসার বাইরে গিয়েছিল। তারাও চায় এই বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে ভ্যাকসিন বড় ধরনের রক্ষাকবচ হয়ে আসুক।

লেখক : রাশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা