kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

বিপন্ন পাখি

নীলগলা বসন্তবাউরি

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলগলা বসন্তবাউরি

সন্তানের মুখে আহার তুলে দিচ্ছে মা পাখিটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নীলগলা বসন্তবাউরি। নামেই কত না মাধুর্য। আর রূপ সৌন্দর্যটা সাতরঙা। চোখ পড়লে মুহূর্তেই পাখিটির প্রেমে পড়ে সবাই। ঠোঁটের উপরিভাগে সিঁদুর রঙের টিকলি। এরপর নীলাভ রেখা আর লালের মিশ্রণ। দেখলে মনে হয় পাখির মাথায় সিঁদুর রঙের টুপি। প্রকৃতি যেন নীলগলা বসন্তবাউরিকে নানা রঙে সাজিয়েছে।

এই প্রজাতির পাখির এখন খুব একটা দেখা মেলে না। এ ছাড়া ভীতু স্বভাব হওয়ায় ক্যামেরার ফ্রেমে সাধারণত ওদের আটকানোও যায় না। ক্রমাগত বৃক্ষনিধনের কারণে পাখিটি এখন বিলুপ্তির পথে। ক্যামেরার শার্টারের শব্দ ওর কানে বাজলেও সন্তানের মুখে খাবার দিতে হবে এই কারণে ডানা মেলেনি। প্রজনন মৌসুমে নীলগলা বসন্তবাউরিটির দেখা মেলে পটুয়াখালীর বাউফলের ধানদী গ্রামে বৃক্ষপ্রেমিক আবুল বাশারের বাড়ির সামনে।

একটি রেইনট্রির ডালের পুরনো গর্তে ডিম পাড়া, বাচ্চা ফোটানো—এরপর এখন ছানাদের লালন-পালনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে পাখিটি। এর ঠোঁট মোটা, নাকের ছিদ্র পালক কিংবা শক্ত লোমে ঢাকা। বিশ্বে ২৪ প্রজাতির নীলগলা বসন্তবাউরি থাকলেও বাংলাদেশে রয়েছে পাখিটির পাঁচ প্রজাতি। কিছু প্রজাতির লোম ঠোঁটের আগা পর্যন্ত পৌঁছে। নীলগলা বসন্তবাউরির চোখের পাশে পালকহীন চামড়া, লেজ বর্গাকার বা ক্রমশ সরু। ছেলে ও মেয়ে পাখি দেখতে প্রায় একই রকম। চোখের চারপাশসহ গলার নিচের অংশ নীল। পিঠ থেকে লেজ অবধি টিয়া পাখির রং। আর  বুকের তলদেশ হালকা টিয়ে রঙের। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির সামান্য কিছু পালক ছাড়া দেহের পুরোটাই সবুজ রঙের।

নীলগলা বসন্তবৌরি সবুজ রঙের বৃক্ষচারী পাখি। সাধারণত বন, কুঞ্জবন ও বাগানে এদের বিচরণ। সাধারণত একা বা জোড়ায় দেখা যায়। মাঝেমধ্যে অন্য ফলাহারি পাখির মিশ্র দলে যোগ দেয়। এরা ফলদ গাছ থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এদের খাদ্যতালিকায় প্রিয় হচ্ছে ফল এবং ম্যানটিস ও অন্যান্য পোকা। জোরগলায় দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাকে। প্রজনন ঋতুতে প্রায় বিরামহীনভাবে সারা দিন ডাকতে থাকে। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। এরা ডিম পাড়ে তিন থেকে চারটি। ডিমের রং সাদা।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক পিযুষ কান্তি হরি বলেন, ‘নীলগলা বসন্তবৌরি প্রজাতির পাখিটি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশ বিপর্যয়। দেশি প্রজাতির আম, কাঁঠাল, জলপাই, হিজল গাছের মরা ডালের গর্তে বাসা তৈরি করে এরা। ওই সব গাছের সংখ্যা এখন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। খেজুরের রস ওদের খুব পছন্দ। বিভিন্ন ফল-ফলাদির গাছের সংখ্যাও কম। আবার কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারে ওরা এখন বিলুপ্তির পথে। তবে পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় এই প্রজাতিকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা