kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

রাশিয়ার টিকা

ঘরে আত্মতৃপ্তি বাইরে সন্দেহ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরে আত্মতৃপ্তি বাইরে সন্দেহ

প্রথম দেশ হিসেবে করোনার টিকার যে অনুমোদন রাশিয়া দিয়েছে, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই টিকা কতটা নিরাপদ কিংবা করোনার বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি অনেক দেশ ও সংস্থা সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এই সন্দেহের ভিত্তি বেশির ভাগই বৈজ্ঞানিক, কিছুটা রাজনৈতিক। অন্যদিকে টিকার দৌড়ে ‘প্রথম’ হওয়ার যে স্বাদ রাশিয়া পেতে চাইছে, সেটাও অনেকটা বিশ্বরাজনীতিতে আধিপত্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই। যদিও অন্যদের সন্দেহ দূর করতে মস্কো দাবি করেছে, এরই মধ্যে ২০টি দেশ ‘স্পুিনক-ভি’ টিকা কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিওএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে করোনার টিকার ১৬৮টি প্রকল্প চালু আছে। এর মধ্যে ২৮টি টিকা আছে মানবদেহে পরীক্ষা (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) চালানোর পর্যায়ে। এগুলোর মধ্যে আবার ছয়টি রয়েছে তৃতীয় ধাপে। ডাব্লিওএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ‘স্পুিনক-ভি’ ছিল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম পর্যায়ে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে টিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় রুশ সরকার। ১৯৫৭ সালে স্নায়ুযুদ্ধের সময় একইভাবে সবাইকে চমকে দিয়ে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছিল রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। সেটার নামও ছিল ‘স্পুিনক’। ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্নায়ুযুদ্ধে অনেকটা এগিয়ে যায় তারা।

সমালোচকরা বলছেন, ওই একই কারণে টিকার ক্ষেত্রেও রাশিয়া প্রথম হতে চাইছে। এ কারণে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাদ দিয়ে তারা টিকার অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল তাইওয়ান সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার বলেন, ‘এটা প্রথম হওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা নয়। আমরা যে ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছি, সেটি হবে নিরাপদ। আমাদের গবেষণার তথ্য একেবারে স্বচ্ছ। আমাদের দুটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। সেই হিসাব ধরলে, রাশিয়ার ভ্যাকসিনটি এখন প্রথম পর্যায়ে থাকার কথা।’

জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রোগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাশিয়ার ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ কিংবা কতটা কার্যকর, তার কিছুই আমাদের জানা নেই।’

রাশিয়ার টিকার প্রাথমিক অনুমোদনের ব্যাপারে ডাব্লিওএইচও জানিয়েছে, তারা এ নিয়ে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ জানান, প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার আগে যেকোনো টিকার তথ্য-উপাত্ত বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। রাশিয়ার টিকার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সন্দেহ আর সমালোচনার জবাবে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো বলেছেন, ‘এই সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন।’

‘স্পুিনক-ভি’ তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ‘রাশিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (আরডিআইএফ)। এই তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ গতকাল দাবি করেন, ভারতসহ ২০টি দেশ এরই মধ্যে তাঁদের টিকার ১০০ কোটি ডোজ কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। দিমিত্রিয়েভ জানান, তাঁদের টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। আগামী মাসে পুরোদমে টিকার উৎপাদন শুরু হবে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা