kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

লালমনিরহাটে ভিডিও ফাঁস

জীবাণুমুক্ত হাতে ঘুষ নেন ওসি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবাণুমুক্ত হাতে ঘুষ নেন ওসি

প্রতীকী ছবি

মামলার কারসাজি করতে থানার ওসি ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার আগে করনোর ভয়ে দুই হাত জীবাণুমুক্ত করে নেন। এরপর হাতে টাকা নিয়ে পকেটে পোরেন। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলমের ঘুষ নেওয়ার প্রায় সাত মিনিটের এ রকম একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। তিনি এই ঘুষ নিয়েছেন একটি মামলার আসামিপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে। মামলার আসামিকে তিনি গ্রেপ্তার করেননি, উল্টো আসামির পক্ষে টাকা নিয়ে ওই মামলার বাদীকেই হয়রানির ‘নীলনকশা’ তৈরির সঙ্গে ওসি নিজেকে জড়িয়েছেন।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের কক্ষে বসে আছেন ওসি। আর দর্শনার্থীদের চেয়ারে বসে থাকা দুজনের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে অডিওতে। টেবিলের ওপর থাকা কাগজপত্র দেখছেন আর মাঝেমধ্যে ভিডিওর অন্য প্রান্তে থাকা দুজনের সঙ্গে কথা বলছেন ওসি।

ভিডিওতে ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘মামলায় তোমরা যাকে বাদী করতে চাচ্ছ সে তো এখনো কারাগারে আছে। তার জামিন হওয়ার আগেই তাকে বাদী বানিয়ে মামলা নেওয়া হলে বেআইনি হবে। জামিনের কাগজপত্রসহ তোমরা আসলে তখন মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে। এর আগে কোনো ঝামেলা হলে তোমরাই প্যাঁচে পড়তে পারো।’

ওসির ওই কথার পর ঘুষদাতাদের একজন বলেন, ‘আমরা কোনো ঝামেলা করি নাই, করবও না। প্রয়োজন হলে ওই দিকে যাবে না কেউ।’

মাহফুজ আলম ওই দুজনের উদ্দেশে আরো পরামর্শ দেন, ‘মামলা এখানে (থানায়) একটা করে দেব। কোর্টেও একটা মামলা এবং চেক ডিস-অনার করবে। তখন সে চড়কির মতো ঘুরবে। যারা বুদ্ধিদাতা তারা হেরে যাবে।’

ভিডিওর অন্য প্রান্তে থাকা একজন তখন বলেন, ‘আস্তে আস্তে করতে হবে। একটা একটা করে।’ একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ওসির কাছে জানতে চান, ‘স্যার, টাকা আজকে দিব, নাকি মামলার দিন।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘সেটা তোমাদের ব্যাপার।’ এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে কমিটমেন্ট করতে হবে। যেদিন মামলা হবে, সেই দিনই আসামি ধরতে হবে।’

এরপর ভিডিও ধারণকারীদের একজন ওসির কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করতে করতে বলেন, ‘টাকার মাধ্যমেও করোনা ছড়াচ্ছে।’ এ সময় ওসিও একইভাবে নিজের হাত জীবাণুমুক্ত করেন। একপর্যায়ে টেবিলে রাখা টাকা নিয়ে ওসি নিজের প্যান্টের পকেটে রেখে বলেন, ‘টাকা দিয়েও এখন খুব করোনা ছড়াচ্ছে। এখানে কত আছে?’ এই প্রশ্নের উত্তরে একজন বলেন, ‘১০ হাজার আছে।’ ওসি এ সময় মামলার জন্য কোনো একজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও টাকা দিতে হবে বলে জানান ভিডিও ধারণকারীদের।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমি কারো কাছে টাকা নিয়েছি কি না, জানি না। হতে পারে ভিডিওটা এডিট করা।’

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিভাগীয়সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা