kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

করোনায় ভার্চুয়াল বিচার

তিন মাসে কারাবন্দি কমেছে ২০ হাজার

এম বদি-উজ-জামান   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন মাসে কারাবন্দি কমেছে ২০ হাজার

রাজধানীর আদাবর থানার মনসুরাবাদ এলাকার মুদি দোকানি মাহবুব আলম দিদার এবং তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গত বছরের ২৮ নভেম্বর। হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর ওই দম্পতি গত ১ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। একইভাবে হাইকোর্টে জামিনের পর সিরাজগঞ্জের সোলাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হযরত বেলাল গত ১২ জুলাই কারামুক্ত হয়েছেন। এভাবে গত তিন মাসে দেশের ৬৮টি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি মিলেছে প্রায় ৭০ হাজার বন্দির। আবার এই তিন মাসে নতুন করে ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে কারাবন্দির সংখ্যা কমেছে ২০ হাজারের বেশি। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থা চালুর সুবাদে কারাগারে বন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা সংক্রমণে সৃষ্ট স্থবির পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালত চালুর পর সারা দেশের আদালত থেকে অনেক কারাবন্দির জামিন আদেশ হয়েছে। এরপর এসব বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে গেছেন। ফলে কারাগারে বন্দির সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কমে গেছে।  

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫টি জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৩১৪ জন। জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজারের কাছাকাছি। আর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সংখ্যাটি ৯৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত ২৭ জুন বন্দির সংখ্যা ছিল ৭১ হাজার ৯২৮, ২৫ জুলাই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৬১৮ জনে। সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট বন্দির সংখ্যা ছিল ৭৩ হাজার ৮৪৮।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে নিয়মিত আদালত বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই সময়ে সারা দেশে বিভিন্ন মামলায় শত শত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামিন আবেদনের সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারাগারে বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকে। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দির ভিড়ে কারাগারগুলোতে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে সরকার ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু করতে ৯ মে আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ নামে গেজেট জারি করে। এই অধ্যাদেশ জারির পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুধুই জামিন আবেদনের শুনানির এখতিয়ার দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গত ১১ মে সারা দেশে ভার্চুয়াল আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়।

সুপ্রিম কোর্টের হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মে সর্বপ্রথম কুমিল্লার একটি আদালত থেকে এক বন্দির জামিন মঞ্জুর করা হয়। এর পর থেকে সারা দেশে জেলা/মহানগর জজ আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে একের পর এক জামিন আদেশ হতে থাকে।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে থেকে গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে নিম্ন আদালতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৯টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে কারাবন্দি ৬৭ হাজার ২২৯ জনকে জামিন দেওয়া হয়। এর পরের সপ্তাহে জামিন হয় চার হাজারের বেশি বন্দির। হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ থেকেও অনেককে জামিন দেওয়া হয়। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করায় এসব বন্দি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা