kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

অন্য রকম

গায়ে উর্দি, হৃদয়ে সাহিত্য

জহিরুল ইসলাম   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গায়ে উর্দি, হৃদয়ে সাহিত্য

জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) পড়াশোনা শেষে যোগ দেন সাংবাদিকতায়। কাজ করেন দৈনিক আজাদীসহ কয়েকটি পত্রিকায়। সেই শুরু লেখালেখির। পরে ১৯৮৯ সালে সার্জেন্ট পদে যোগ দিয়ে পেশা বদলান; কিন্তু লেখার ‘নেশা’ ছাড়তে পারেননি। সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর সরব উপস্থিতি ম্লান করে দিয়েছে পেশাগত পরিচয়! তাই বলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে এতটুকু অবহেলা করেননি, উল্টো জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিয়েছেন। এ জন্য মিলেছে স্বীকৃতিও; পেয়েছেন পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ (বিপিএম)।

শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গন থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কঠিন ভূমিতে অনায়াস বিচরণে সিদ্ধ এই মানুষটির নাম শিকদার আবদুস সালাম। তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, ছড়াকার, গীতিকার ও জাদুশিল্পী।

শিকদার আবদুস সালামের জন্ম ১৯৬০ সালে, মাদারীপুরে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

এ বছর বইমেলায় প্রকাশিত সাতটিসহ আবদুস সালামের বইয়ের সংখ্যা ২৭। গল্পগ্রন্থ ‘সমতল’, ‘ফাল্গুনের খেলাধুলা’, ‘ধূসর বর্ণের ছায়া’, ‘দুই কথাশিল্পীর গল্প’ উল্লেখযোগ্য। ছড়ার বই ‘নির্বাচিত ছড়া’ (২০২০), প্রবচনগ্রন্থ ‘নিত্য বচন’ (২০২০)। ‘খুনি’ ও ‘জুলুম’ নামে দুটি নাটক আছে। গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘অনুষ্ঠান উপস্থাপনা’ (২০২০), ‘বাংলা ছন্দ পরিক্রমা’। গীতিকবিতার বই ‘গীতিময় গীতিকা’ (২০২০) উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকারও তিনি। গান লিখেছেন দুই শর মতো। ‘ছুঁ মন্ত ছুঁ যখন দিলাম ফুঁ’ নামে জাদুবিষয়ক বই আছে তাঁর।

তাঁর লেখা ‘বাংলাদেশের জাদু ও জাদুশিল্পী’ বইটি ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফারেন্স হিসেবে পড়ানো হয় বলে জানান আবদুস সালাম। নডর ডেম ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে পড়ানো হয় ‘বাংলা ছন্দ ও পরিক্রমা’ বইটি (রেফারেন্স)। এ বিষয়ে নডর ডেম ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জমির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবদুস সালামের বাংলা ছন্দ ও পরিক্রমা বইয়ের ছন্দ বিষয়টি আমরা রেফারেন্স হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি। আসলে ছন্দের অনেক বই থাকলেও এটির মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম ধারণা আছে। সুপাঠ্য বইটি শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষেত্রে সহজ হবে মনে করে নেওয়া হয়েছে।’

নিজের সম্পর্কে শিকদার আবদুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের চাকরি করার পর যেটুকু সময় পাচ্ছি তার সবটুকুই জাদু আর বাংলা সাহিত্যের জন্য ব্যয় করছি। একটা সময় মনে হয়েছে এ দেশে অনেক বিখ্যাত জাদুশিল্পী থাকলেও তাদের কাউকে নিয়ে কোনো বই নেই। সে জন্য কষ্ট করে হলেও একটা বই লেখার চিন্তা থেকে জাদুশিল্পীদের নিয়ে বই লিখলাম। বইটি লিখতে গিয়ে আমায় ৬৪ জেলায় ঘুরতে হয়েছে।’ চাকরির পাশাপাশি এই কাজ তাঁর জন্য কঠিন ছিল বলে জানান তিনি।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা : পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে বরাবরই ঝুঁকি নিয়েছেন আবদুস সালাম। ১৯৯৯ সালে যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। ওই বছরের ৩০ মে সন্ধ্যার দিকে ঘটে ঘটনাটি। সাধারণ পোশাকে পুলিশ ফাঁড়িতে ফিরছিলেন তিনি। হঠাৎ দেখেন কয়েকজন দুর্বৃত্ত স্কুটি থামিয়ে এক নারীর স্বর্ণালংকার, টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কিছু না ভেবে নিরস্ত্র আবদুস সালাম তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর পিঠে পাঁচবার ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তবু এক ছিনতাইকারীকে ধরে রাখেন তিনি। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে মানিকনগরের মনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় নেওয়া হয় পুলিশ হাসপাতালে। এরপর মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন আবদুস সালাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা