kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

বামনা ওসির থাপ্পড় ও লাঠিপেটা তদন্তে নেমেছে কমিটি

আওয়ামী লীগ নেতাদের পুলিশের পক্ষে সাফাই

বরগুনা ও বামনা প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বামনা ওসির থাপ্পড় ও লাঠিপেটা তদন্তে নেমেছে কমিটি

বরগুনার বামনায় মানববন্ধনে লাঠিপেটা এবং শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এএসআইকে ওসির থাপ্পড় মারার ঘটনা তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশের তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। গতকাল রবিবার কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ভিডিওচিত্র নির্মাণ সহকারী সিফাতের মুক্তির দাবিতে গত শনিবার আয়োজিত ওই মানববন্ধন পণ্ড করতে ওসির বেপরোয়া আচরণ আড়ালে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও একটি প্রভাবশালী মহল। 

জানা গেছে, ওসির বেপরোয়া আচরণের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মফিজুল ইসলামকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জেলার আমতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ রবিউল ইসলাম ও পুলিশ অফিসের ইন্সপেক্টর (ক্রাইম) সোহেল আহমেদ। কমিটির প্রধান বলেন, ‘মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পুরো ঘটনা তদন্তেই কাজ করছে কমিটি। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

এদিকে সিফাতের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত ওই মানববন্ধনকে ‘জামায়াতিচক্রের কাজ’ উল্লেখ করে ওসিসহ থানা পুলিশের তাণ্ডবের বিষয়টি আড়ালের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও প্রভাবশালী মহল তদন্ত কমিটিকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তদন্ত কমিটিকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস তালুকদারসহ একটি প্রভাবশালী মহল মানববন্ধনকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, বঙ্গমাতার জন্মদিনে সিফাতের মুক্তির দাবির মানববন্ধন একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সরকারকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলতে সড়ক অবরোধ করে এই মানববন্ধন করছিলেন। আর প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে মানববন্ধন করায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। ওসি ইলিয়াসকে সৎ পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করে তদন্ত কমিটিকে এই নেতারা বলেন, পুলিশের কঠোর ভূমিকার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

মানববন্ধন পণ্ড করতে গিয়ে গত শনিবার শত শত মানুষের সামনে এক এএসআইকে সজোরে চড়-থাপ্পড় মারেন বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদার। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই এএসআই বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুবই হতাশায় ভুগছি। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছি। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’

হিউম্যান রাইটস ফোরামের নিন্দা : মানববন্ধন পণ্ড করতে বামনা থানার ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যদের বেপরোয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। একই সঙ্গে এই হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সিফাতের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের এমন নিষ্ঠুর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই হামলা পুলিশের ভূমিকা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণে ফোরাম ক্ষুব্ধ।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা