kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

আগস্টেই চালু হচ্ছে সব আন্ত নগর ট্রেন

► ১৬ আগস্ট চালু হবে ১২ জোড়া আন্ত নগর ও এক জোড়া কমিউটার
► টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি কমাতে উদ্যোগ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে ট্রেন
► টিকিট ছাড়া ও দাঁড়িয়ে যাত্রা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগস্টেই চালু হচ্ছে সব আন্ত নগর ট্রেন

করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় সব কিছু আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আনতে এবার পুরোদমে চালু হচ্ছে ট্রেন। সীমিত পরিসরের ছক ভেঙে আগামী ১৫ আগস্টের পর থেকে একে একে চালু হবে সব আন্ত নগর ট্রেন। পর্যায়ক্রমে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সব ট্রেনের চাকাই সচল হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালাতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্রেনের ইঞ্জিন ও কোচগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে বন্ধ ছিল ট্রেন। টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এখন সারা দেশে ১৭ জোড়া ট্রেন চলছে। করোনায় অন্যান্য গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানো হলেও ট্রেনের ভাড়া অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মানতে একটি করে আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, করোনায় ধারণক্ষমতার অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে চাহিদার চেয়ে জোগান কম হওয়ায় টিকিট নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনলাইনে সব টিকিট দেওয়ায় যাত্রীরা অনেক চেষ্টার পরও টিকিট পাচ্ছে না—এমন অভিযোগ আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এর পর থেকে ট্রেনের সংখ্যা বা আসন বাড়ানো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় আসন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে টিকিট নিয়ে অসন্তোষ কমবে। যাত্রীরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

রেলওয়ের উপপরিচালক খায়রুল কবির স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, যাত্রার দিনসহ পাঁচ দিন আগে আন্ত নগর ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট ছাড়া হবে। অনলাইন ও মোবাইল ফোন অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি হবে। বিক্রীত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রিও বন্ধ থাকবে। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কোচের ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হবে। ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর ও নরসিংদী স্টেশনে আন্ত নগর ও কমিউটার ট্রেনের কোনো যাত্রাবিরতি থাকবে না।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, রাত্রিকালীন উচ্চ শ্রেণির যাত্রীদের জন্য ট্রেনের ভেতর কোনো চাদর, কম্বল ও বালিশ সরবরাহ করা হবে না। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বেডিং চার্জ টিকিট মূল্য থেকে বাদ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার লক্ষ্যে ট্রেনে খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

রেলওয়ের মহাপরিচাক মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘এখন অন্যান্য গণপরিবহন চলছে। সব কিছু চলমান থাকলে ট্রেনকে কেন বসিয়ে রাখব। সেই দিক বিবেচনা করে আগস্টের মধ্যে সব আন্ত নগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্টের পর থেকে পর্যায়ক্রমে ট্রেন চালু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘সীমিত পরিসরে ট্রেন চলার সময় যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হয়েছে, এখনো সেভাবেই চলবে।’

নতুন করে যেসব ট্রেন চালু হচ্ছে : আগামী ১৬ আগস্ট পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রুটে একতা এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে ঢাকার পথে পদ্মা এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে সিলেটে পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জে হাওর এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে তারাকান্দিতে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে চিলাহাটি তিতুমীর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহে বিজয় এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে নোয়াখালী পথে উপকূল এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে চিলাহাটিতে সীমান্ত একপ্রেস, গোবরা থেকে রাজশাহীতে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জে জামালপুর কমিউটার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা