kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

মৃত্যুর আগে অমর কীর্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৃত্যুর আগে অমর কীর্তি

‘দামি গাড়ির চেয়ে আমার কাছে এক জোড়া স্যান্ডেলের মূল্য অনেক বেশি। আফ্রিকার একটি শিশুর পা খালি দেখে তাকে এক জোড়া স্যান্ডেল দিলাম। এরপর তার মুখে ফুটে ওঠা হাসি দেখে যে তৃপ্তি পেয়েছি তা এই গাড়ি দেখেও পাইনি।’ এ মন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা আলী বানাতের।

তিনি চড়তেন ছয় লাখ ডলারের (বা পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকার) ফেরারি স্কাইডারে। এই দামি গাড়ি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আলী বানাত যখন এই মন্তব্য করেন, তখন তিনি ভিন্ন মানুষ। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর ধনুর্ভঙ্গপণ করেছেন। অথচ হাতে সময় খুবই কম। মারণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়েছে তাঁর। তখন ২০১৫ সাল। এরপর মাত্র তিন বছর বেঁচে ছিলেন আলী বানাত। অথচ এই অল্প সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি। তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠান হাসি ফোটাচ্ছে আফ্রিকার হাজারো শিশুর মুখে, অসহায় নারীদের ভরসা হয়েছে। আলী বানাতের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ১৯৮২ সালে। মাত্র ২১ বছর বয়সে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। প্রতিষ্ঠা করেন একটি সিকিউরিটি ও একটি ইলেকট্রিক্যাল কম্পানি। বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে টেস্টিকিউলার ক্যান্সার ধরা পড়ার পর বদলে যায় তাঁর জীবন।

চিকিৎসকরা সময় বেঁধে দেন সাত মাস। তবে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন তিন বছর। এই তিন বছরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নিজের সব অর্থসম্পদ দান করে দেন।

ইউটিউবার অ্যাডাম সালেহকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যান্সারকে ‘আল্লাহর উপহার’ উল্লেখ করে অশ্রুসিক্ত আলী বানাত বলেন, ‘ক্যান্সার আমাকে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, আমার চোখ খুলে দিয়েছে।’

২০১৫ সালের অক্টোবরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মুসলিমস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড (এমএটিডাব্লিউ)’। এর মাধ্যমে আফ্রিকার টোগো, ঘানা ও বুরকিনা ফাসোতে হাজার হাজার অসহায় নারী-শিশুর পাশে দাঁড়ান তিনি। এমএটিডাব্লিউর উদ্যোগে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে ২০০ বিধবা নারীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ৬০০ এতিম শিশুর জন্য থাকার ব্যবস্থা করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যাতে স্থানীয় মানুষ উপকৃত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ আরো নানা সামাজিক কাজ করেন। পরে মানবকল্যাণে দান করার জন্য ধনীদের উৎসাহিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গো ফান্ড মি’। এটি এখনো লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করে বিশ্বজুড়ে অসহায় মানুষকে সহায়তা করছে।

মৃত্যুর আগে আলী বানাত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার গাড়ি, দামি ঘড়ি, এমনকি জামাকাপড়—সব থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর এসবই আমি বিদেশে গিয়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষকে দান করে দিয়েছি। আমি এই পৃথিবীর কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিতে চাই না, নিতে পারবও না।’

২০১৮ সালের ২৯ মে মারা যান আলী বানাত। সূত্র : ডেইলি টাইমস, এসবিএস ডটকম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা