kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বৈরুতের বাতাসে কান্না আর ক্ষোভ

সরকারের দুঃশাসনকে দায়ী করছে জনগণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বৈরুতের বাতাসে কান্না আর ক্ষোভ

সরকারের দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণেই লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় লোকজন। তাদের মতে, এই হত্যাযজ্ঞের জন্য লেবাননের ক্ষমতাবলয়ে থাকা প্রত্যেককেই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় বন্দরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে কয়েকজনকে। তবে স্থানীয় লোকজন মনে করে, রাজনৈতিক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত লেবাননের কোনো মানুষের জীবনই নিরাপদ নয়।

গত মঙ্গলবার বৈরুতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই ছিল যে আড়াই শ কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হয়েছে। বিস্ফোরণে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণ গেছে ১৪৫ জনের। আহতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। নিখোঁজ রয়েছে অনেক মানুষ। গৃহহীন হয়ে পড়েছে বৈরুতের প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা।

নিহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশিও রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দূতাবাসের প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্য আহত হয়েছেন। ফলে মোট আহত বাংলাদেশির সংখ্যা ১০৬। নিহত চার বাংলাদেশি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের মেহেদী হাসান রনি, রাসেল মিয়া, কুমিল্লার রেজাউল ও মাদারীপুরের মিজান।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ড. হাসান দিয়াবকে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লেবাননে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর পাশাপাশি মেডিক্যাল টিম পাঠানো হবে।

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বৈরুতের বাসিন্দা শাদিয়া এলমিউচি। তিনি বলেন, ‘সব সময়ই জানতাম যে একটি অযোগ্য সরকার আমাদের শাসন করছে। কিন্তু এবার তারা যেটা করল, সেটা ক্রিমিনালরাই করে থাকে।’

বিস্ফোরণের পর গতকাল প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে বৈরুতে পা রাখেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তবে ম্যাখোঁর বক্তব্যেও উঠে আসে লেবানন সরকারের দুর্নীতির কথা। তিনি জানান, ফ্রান্স অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেবে। তবে সেই সহায়তা কোনোভাবেই দুর্নীতিবাজদের হাতে দেওয়া হবে না। লেবাননে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনে সহায়তার আশ্বাস দেন ম্যাখোঁ।

মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের সক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত লেবানন সরকারের নেই। এই কারণে তারা নিজেদের মতো করে তদন্ত করবে।

যে গুদাম থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত, সেখানে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব রাসায়নিক দ্রব্য সরিয়ে নিতে তারা সরকারকে বলেছিল। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বিস্ফোরণে যে কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জেমাইজি একটি। সেখানকার বাসিন্দারা বলছে, হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা নয়, ক্ষমতাবলয়ে থাকা প্রত্যেককে এই ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান বলেছেন, আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা নেই। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে। সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা