kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

রেলওয়ে পাকশীর প্রতিবেদন

ট্রেনকর্মীরা তুলছেন টিকিট ছাড়া যাত্রী

রফিকুল ইসলাম   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেনকর্মীরা তুলছেন টিকিট ছাড়া যাত্রী

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালাতে তোড়জোড় করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নিরাপদ যাত্রায় ট্রেনে মানুষের আগ্রহ থাকলেও করোনা সংক্রমণ এড়াতে সীমিত পরিসরে চলছে ট্রেন। বর্তমানে ট্রেনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সব স্টেশনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বিনা টিকিটেই ট্রেনে উঠে পড়ছে যাত্রীরা। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনসেবা নিশ্চিতে বিঘ্ন ঘটছে। এ অবস্থায় বিনা টিকিটের যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পরও ট্রেনের কিছু অসাধু কর্মী বিনা টিকিটে যাত্রী তুলছেন। বিশেষ অভিযানে এসব যাত্রী ধরা পড়লে অনেকে ফাঁকফোকর গলিয়ে পারও পেয়ে যাচ্ছে। ফলে ট্রেনে দুর্নীতি রোধ করে স্বচ্ছতা ফেরাতে রেল বিভাগ কঠোর অবস্থান নিলেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), ট্রেন টিকিট এক্সামিনার (টিটিই), গার্ড ও ট্রেন পরিচর্যকদের যোগসাজশে বিনা টিকিটে যাত্রী তোলা হচ্ছে ট্রেনে। বিনা টিকিটের এসব যাত্রীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি অর্থও। স্টেশনে নামার পর আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে এসব যাত্রীকে পার করিয়ে দেন তাঁরা।

গত সোমবার ও বুধবার ঈদফেরত দুটি ট্রেনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। জয়পুরহাট স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে অভিযান চালিয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করায় ৫৫ জন যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ৩১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ১০৫ জন বিনা টিকিটের যাত্রীর মধ্যে ৩৩ জনকে সান্তাহার স্টেশনে এবং ৭২ জনকে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে জরিমানা করা হয় মোট ৫০ হাজার ৪০০ টাকা।

করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে চলছে ট্রেন। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ধারণক্ষমতার অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হয়। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কমলাপুর স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও দেশের অন্যান্য স্টেশনে সেই সক্ষমতা নেই। জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে হুড়াহুড়ি করে বিনা টিকিটের অনেক যাত্রী ট্রেনে উঠে পড়ছে। কিভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন পরিচালনা করলেও বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনের কর্মীরা বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন করছেন। ট্রেনের কর্মীরা বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন না করলে ট্রেনের পরিবেশ আরো সুন্দর থাকত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) ফুয়াদ হোসেন আনন্দ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দায়িত্বরত স্টাফরা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় বিনা টিকিটে যাত্রীরা ট্রেনে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ট্রেনে যাত্রী তুলছে। প্রতিটি বগিতে অ্যাটেনডেন্ট না থাকায় টিকিট ছাড়া যাত্রী উঠছে। একটি করে সিট ফাঁকা রেখে টিকিট বিক্রি করা হলেও অনেকে উঠে যাচ্ছে। এতে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে সমস্যা হচ্ছে। রেল বিভাগ যাত্রীসেবা উন্নত করতে নানা পরিকল্পনা নিলেও ট্রেনের স্টাফরা চলছে অন্য পথে। তারা বিনা টিকিটে যাত্রী তুলছে। এতে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’

রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবির মিলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব স্টেশনে বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকানোর সক্ষমতা নেই রেলের। ফলে অবাধে যে কেউ ঢুকতে পারছে। এসবে দায়িত্বরতদের অবহেলা রয়েছে। জনবল সংকট থাকায় এটা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা