kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

‘আকস্মিক’ বন্যা আগস্টের শেষে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আকস্মিক’ বন্যা আগস্টের শেষে

বন্যার ভেতরেই এই মাসের শেষের দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘আকস্মিক’ বন্যায় আরেকবার ভাসতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি বলছে, আগস্টের শেষের দিকে উজানে ভারি বর্ষণের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আকস্মিক বানে ডুবতে পারে ওই সব অঞ্চল। এটি হতে পারে খুবই স্বল্পমেয়াদি। তবে মৌসুমি বন্যার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এদিকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী থাকা বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের নদ-নদীর পানিও কমছে। তবে রাজধানীর চারপাশে নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাও তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি সমতল থেকে কমতে শুরু করেছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত পানি কমা অব্যাহত থাকতে পারে। পদ্মা নদীর পানি আজ শুক্রবার পর্যন্ত কয়েকটি পয়েন্টে কমতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১টি পর্যবেক্ষণে থাকা স্টেশনের মধ্যে পানি বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ৬২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির। এ ছাড়া বিপত্সীমার ওপরে স্টেশন আছে ২৪টি। বিপত্সীমার ওপরে আছে ১৫টি নদীর পানি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গত বুধবার রাতে দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়ে ভারতের মধ্য প্রদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবারের ধারাবাহিকতায় আজও দেশের প্রায় সব জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহও অব্যাহত থাকবে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যৌথভাবে রংপুর ও দিনাজপুরে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে পঞ্চগড়, নীলফামারী, সিলেটসহ কয়েকটি জেলায়। আবহাওয়া অফিস আরো জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উদয় রায়হান বলেন, দেশের প্রায় সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, এই মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে এই মাসের শেষে।

এদিকে পদ্মার পানি তিন দিন ধরে ফের বাড়তে শুরু করায় শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলসহ আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সাড়ে চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় পদ্মার পানি সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপত্সীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল দুপুরে বিপত্সীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় আবারও দেখা দিয়েছে খাদ্য, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও প্রয়োজনের চেয়ে তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছে বন্যাদুর্গতরা।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মার পানি সামান্য কমলেও এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার পানি কমে বিপত্সীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শ মানুষ এখনো আশ্রয় নিয়ে আছে বিভিন্ন স্কুল, বেড়িবাঁধসহ এলাকার মহাসড়কের ঢালে। পদ্মায় প্রবল স্রোতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে। মেঘনায় জোয়ারের প্রভাবে চাঁদপুরের হাইমচরের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। পানির চাপে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে মেঘনাপারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুটি পয়েন্ট দিয়ে প্রকল্পের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। দক্ষিণে সাগর ফুঁসে উঠায় এবং উত্তরে উজানের পানির চাপে চাঁদপুরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাছের ঘের ও পানের বরজ।

বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি বাড়তে থাকায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নিমাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ফতুল্লার বক্তাবলী, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার।

গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি এখন বিপত্সীমার নিচে নেমে এসেছে। গত বুধবার রাত ৯টায় তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার নিচে নামে। ঘাঘট, তিস্তা, করতোয়া, বাঙ্গালীসহ অন্যান্য নদীর পানিও বিপত্সীমার অনেক নিচে নেমে এসেছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা