kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

ঢাকায় ঢোকা ও ছাড়ায় বিপুল যাত্রীর চাপ

উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, দেখার নেই কেউ

লায়েকুজ্জামান   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকায় ঢোকা ও ছাড়ায় বিপুল যাত্রীর চাপ

ঢাকায় ফেরা মানুষের ঢল যেমন নেমেছে, একই সঙ্গে ঢাকা ছাড়ছেও বিপুলসংখ্যক মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে এবং বেশ কয়েকটি জেলা থেকে পাওয়া খবরে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ঈদুল আজহার সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকা ছাড়ায় বারণ থাকায় গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি তাঁরা। আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তাঁদের বেশির ভাগ এখন গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। আবার ঈদের সময় যাঁরা বাড়ি গিয়েছিলেন, কর্মস্থলে যোগ দিতে তাঁদের বেশির ভাগই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় ফেরা এই বিপুলসংখ্যক মানুষের স্রোত আরো অন্তত তিন দিন থাকবে। তবে এই যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীসাধারণের কাছ থেকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে রাজধানী পরিবহনে ফরিদপুর যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। সরকারি কর্মকর্তা ওই ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সময় নিষেধাজ্ঞা থাকায় গ্রামের বাড়িতে যেতে পারিনি। এখন দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়ায় গ্রামে যাচ্ছি। বাসে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। ৫০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা।’ রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি মানা কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সরকারি কোনো মনিটরিং চোখে পড়েনি।

ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার রাত থেকে সেটি বন্ধ। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে যাত্রী বহন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এনা পরিবহনের মালিক ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেশির ভাগ পরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, ভাড়াও বেশি নিচ্ছে, এটা ঠিক। এসব দেখভালের জন্য সরকারের ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকার কথা। তাঁরাই এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করবেন। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি এনা পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, বাড়তি ভাড়া না নিয়ে পরিবহন পরিচালনা করছি।’ 

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, শ্যামলী পরিবহনের বাসে সব আসনে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছে। এ ছাড়া পাটুরিয়া ঘাট থেকে যেসব বাস ঢাকায় আসছে, সেসব বাসের সব আসন পূর্ণ হওয়ার পর দাঁড় করিয়েও যাত্রী আনা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মাদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। স্বাস্থ্যবিধি ও বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি দেখতে রাজধানীর তিনটি টার্মিনালে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। এ ছাড়া যেসব জেলা থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়ছে, ওই সব জেলায় বা তাত্ক্ষণিক আমাদের হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’

চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় আসা পূর্বাশা ও জেআর পরিবহনের সব বাসের সব আসনে যাত্রী বহন করা হয়েছে। দুই আসনে এক যাত্রী হিসাবে বর্ধিত ভাড়া ৭০০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ৮৫০ টাকা।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাস চলছে। আর প্রতি আসনে যাত্রী নেওয়া হয় যাত্রীদের সম্মতিতেই।’

গতকাল দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট নামের বাসের সব আসনে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। বাসটি যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। ভাড়াও ঠিক আছে।

একই সময়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইকোনো পরিবহনের সব আসনে যাত্রী নেওয়া হয়েছে। ওই পরিবহনের কাউন্টারে মফিজুল ইসলাম পরিচয় দেওয়া একজন বলেন, ‘সরকারের সব বিধি মেনে বাস পরিচালনা সম্ভব নয়। আমরা এত লোকসান দিতে পারব না।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা