kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

হোটেলে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

পৃথক স্থানে কিশোরী ও গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




হোটেলে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আবাসিক হোটেলে গত বুধবার রাতে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ শিকার হয়েছেন এক তরুণী। রাতেই হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে বরিশালের উজিরপুরে ধর্ষণে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। নড়াইলের লোহাগড়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দুই ঘটনায়ও অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

গলাচিপা (পটুয়াখালী) : গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গলাচিপা উপজেলার ছোনখোলা গ্রামের শহিদুল সর্দার (২৪), চর বিশ্বাসের বশির গাজী (৩২) ও স্বপন সিকদার (৪০), চর আগস্তির জিতেন হাওলাদার (৩৫) এবং রাঙাবালি উপজেলার চর বেস্টিনের খোকন ডাক্তার (৪৫)। তাঁদের মধ্যে শহিদুল ভুক্তভোগী তরুণীর পূর্বপরিচিত। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার তরুণী এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

পুলিশ জানায়, গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের এক তরুণী বুধবার বিকেলে ডাক্তার দেখাতে গলাচিপা শহরে আসেন। ডাক্তার দেখানো শেষে রাত হওয়ায় তিনি শহরের আবাসিক হোটেল সৈকত মহলে উঠেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোটেল ম্যানেজার ফারুকের সহায়তায় তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করেন শহিদুল। এরপর সেখানে ঢোকেন বশির, স্বপন, জিতেন ও খোকন। পরে এই পাঁচজন তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ১২টায় সৈকত মহলে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক ও তরুণীকে উদ্ধার করে।

গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আসামিদের আদালতে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : উজিরপুরে গত বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া মঙ্গল মণ্ডল (৫০) উপজেলার হারতা ইউনিয়নের কাজীবাড়ি গ্রামের

 মৃত শরত্চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে ও মাছ ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বুধবারই উজিরপুর থানায় মামলা করেন। বরিশাল আদালত আসামি মঙ্গলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহাতাব উদ্দিন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গল মণ্ডল ছয়টি বিয়ে করেছেন এবং দুই সন্তানের জনক। ছয় মাস আগে তিনি ওই কিশোরীকে তাদের বাড়িতে একা পেয়ে প্রথম ধর্ষণ করেন। তখন তিনি কিশোরীকে ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেন। কিছুদিন আগে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবার জানতে চাইলে সে প্রকৃত ঘটনা জানায়। গত মঙ্গলবার মঙ্গল আবার কিশোরীদের বাড়িতে গেলে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে। উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. জিয়াউল আহসান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লোহাগড়া : নড়াইলের লোহাগড়ায় গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম সজিব শেখ (২৭)। তিনি লোহাগড়া পৌর এলাকার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে। লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধূ গত বুধবার রাতে সজিবের নামে মামলা করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে ওই গৃহবধূকে তাঁদের ভাড়াবাড়িতে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন সজিব। বিষয়টি কাউকে না বলতে হুমকিও দেন। চার দিন পর বিষয়টি তিনি তাঁর স্বামীকে জানালে তিনি (স্বামী) থানায় অভিযোগ করেন। গৃহবধূর অভিযোগ, সজিব বেশ কিছুদিন ধরে গৃহবধূকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সজিবের মামাতো ভাই নাসিরউদ্দিন গৃহবধূকে ধর্ষণে সহযোগিতা করেন।

গতকাল নড়াইল সদর হাসপাতালে গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য