kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এবারও ভোগাবে গাজীপুর চৌরাস্তা, শিমুলিয়া ঘাট

সড়কপথে ঈদ যাত্রা

লায়েকুজ্জামান   

২৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবারও ভোগাবে গাজীপুর চৌরাস্তা, শিমুলিয়া ঘাট

ঈদ যাত্রা মানেই নগর-মহানগর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের শিকড়ে ছুটে চলা। সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজট, জনভোগান্তি প্রতিবছরের চিত্র। আবার ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় চাপটা থাকে আরো বেশি। তবে করোনা দুর্যোগে এবার আগের মতো বিপুলসংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে যাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরও আসন্ন ঈদ যাত্রায় যাত্রীর স্রোত থেমে থাকবে না। আর এ ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চলের সড়কপথে গাজীপুর চৌরাস্তা এবং দক্ষিণে মাওয়া নৌ রুট হয়ে উঠতে পারে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির প্রধান কেন্দ্র।

স্বাভাবিক সময়েই গাড়ি চলাচলে নিত্য ভোগান্তির নাম গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে চলাচল করা যানবাহনকে এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অচল থাকতে হয়। উন্নয়নকাজের কারণে টঙ্গী থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক বেহাল। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো অংশে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এবার ঈদ যাত্রার সময়ে বৃষ্টি হলে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

আবার ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যাত্রীদের গাজীপুর চৌরাস্তার ভোগান্তিই শেষ নয়। কারণ ময়মনসিংহ-ফুলপুর-হালুয়াঘাট সড়কও যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে আছে। ময়মনসিংহ-জামালপুর সড়কেরও একই অবস্থা।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত এবার তেমন একটা যানজট হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেতু পার হলেই বিড়ম্বনার শঙ্কা তীব্র। সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত অংশ দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাকবলিত সড়ক হয়ে উঠেছে। সড়কের পাশে

একাধিক হাট বসার কারণে সরু হয়ে উঠেছে মহাসড়কটি। আবার বন্যার কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে জামালপুরের তারাকান্দা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলছে সীমিত আকারে। স্বাভাবিক অবস্থায় দিনে ১০টি ফেরি চলাচল করলেও বর্তমানে চলছে মাত্র তিনটি। স্রোতের কারণে ফেরি পারপারে সময় লাগছে তিন গুণ। পারাপারের জন্য ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে হাজারো যানবাহনকে। দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষের বড় অংশেরই যাতায়াত এই নৌ রুট হয়ে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে ঈদ যাত্রায় তাদের বিপাকে পড়তে হবে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট গতকাল বুধবার পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও পানি বেড়ে যেকোনো সময় তলিয়ে যেতে পারে দৌলতদিয়া পারের কয়েকটি ঘাট। এই পয়েন্টে পদ্মা এরই মধ্যে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে এই রুটেও ফেরি চলাচলে বিড়ম্বনার শঙ্কা তীব্র। আবার সড়কেও ভোগান্তি পিছু ছাড়বে না কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার যাত্রীদের। কারণ গোয়ালন্দ ঘাট-কুষ্টিয়া সড়কে কালুখালী থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত অংশ এখনো নির্মাণাধীন।

বিআইডাব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে গতকাল বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে আগামী দুদিনের মধ্যে পদ্মায় পানি কমে আসবে। আর পানি কমলে স্রোতের তীব্রতাও কমে আসবে। তখন হয়তো ফেরি চলাচল অনেকটা নির্বিঘ্ন হবে।’ 

তবে পূর্বাঞ্চলগামী যাত্রীদের এবার ঈদে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। মেঘনায় দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট অনেকটাই কমে এসেছে। তার পরও শঙ্কা আছে। কারণ প্রতি ঈদেই দেখা যায় ঘোষণা দেওয়ার পরও ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ করা সম্ভব হয় না। এবারের ঈদেও আগের মতো হলে কাভার্ড ভ্যানের কারণে যানজটে পড়তে হবে পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, পোশাক কারখানা বন্ধ থাকা এবং সাধারণ মানুষের ঈদে ঢাকা ছাড়ার আগ্রহ কম বলেই মনে হচ্ছে। সে জন্য ধারণা করা যায়, এবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।

একই ধরনের মন্তব্য করেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির সদস্য কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এবার ঈদ যাত্রায় যাত্রীর চাপ সেভাবে বাড়ার মতো কোনো আলামত এখন পর্যন্ত নেই।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্যের জোগান দিয়েছেন গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা