kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

মধুপুরে গলা কেটে মা-বাবা ও দুই সন্তানকে হত্যা

► রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধার
► সন্দেহভাজন তিনজন আটক

টাঙ্গাইল ও মধুপুর প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধুপুরে গলা কেটে মা-বাবা ও দুই সন্তানকে হত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে মা-বাবা ও দুই সন্তানকে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁদের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা দুই দিন আগে গলা কেটে তাঁদের হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

মধুপুর উপজেলা শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাইরে থেকে বাড়ির গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে যায়। নিহতরা হলেন আব্দুল গনি ওরফে গনি শেখ (৪৫), তাঁর স্ত্রী তাজিরুন ওরফে তানিয়া (৩৮) এবং তাঁদের দুই সন্তান সাদিয়া আক্তার (৮) ও তাইজুল ইসলাম তাজেল (১৮)।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—সে ব্যাপারে তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মধুপুর সার্কেলের এএসপি কামরান হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে পিবিআই, র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডির বিশেষজ্ঞদল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তকাজ শুরু করে। পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানায়, গত দুই দিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। আব্দুল গনি-তাজিরুন দম্পতির বড় মেয়ে  সোনিয়া আক্তার দুই দিন ধরে ফোন করে মা-বাবা বা ভাইবোনের কোনো সাড়া পাননি। গতকাল সকালে আব্দুল গনির শাশুড়ি ওই বাড়িতে গিয়ে গেটের বাইরে থেকে তালা লাগানো দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি স্থানীয়দের জানান। এলাকাবাসী গেটের তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে চারজনের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। একটি কক্ষে দুটি এবং অন্য দুটি কক্ষে একটি করে লাশ পড়ে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডে তা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত আব্দুল গনির শ্যালক শেখ সালাম বলেন, মধুপুর পৌরসভার পোদ্দারবাড়ী মৌজার গোলাবাড়ী ব্রিজের পাশেই তাঁর বোনজামাইয়ের গ্রামের বাড়ি। এক বছর আগে মাস্টারপাড়ায় ৬ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। নিহতের ছেলে তাজেল ভাইঘাট কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। আর মেয়ে সাদিয়া টেকিপাড়া আলহোদা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক, সুজন মিয়া ও আঁখি বেগম জানান, গনি শেখ পরিবার নিয়ে এই বাসায় থাকতেন। গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁর মা মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। গনি শেখকে কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতে দেখেননি তাঁরা। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

স্থানীয় আব্দুর রউফ জানান, গনি শেখ একসময় রিকশা-ভ্যান কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তবে বর্তমানে তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অবশ্য স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ জানান, তিনি সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল গতকাল বিকেল ৫টার দিকে জানান, এই হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, নিহতদের শরীরে কুড়ালের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হবে। এরপর হত্যার প্রকৃত ধরন জানা যাবে। হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক বিশেষজ্ঞদল কাজ শুরু করেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা