kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

বিপিওর প্রতিবেদন

করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১৭৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১৭৭৬

দেশে করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত রোগটির উপসর্গ নিয়ে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৩৭১ জন। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে খুলনা বিভাগ (২২৭ জন), বরিশাল বিভাগ (২১০ জন), রাজশাহী বিভাগ (১৮৩ জন), সিলেট বিভাগ (৯৫ জন), রংপুর বিভাগ (৮১ জন) ও ময়মনসিংহ বিভাগ (৫৭ জন)।

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির (বিপিও) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিপিওর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প বিপিও দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে এই তথ্যচিত্র প্রকাশ করে আসছে।

বিপিওর প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, করোনার কারণে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার ২৩১টি ঘটনা ঘটেছে। করোনায় আক্রান্ত না হয়েও চিকিৎসা পেশাজীবীদের কাছে চিকিৎসা পাননি ৬৭ জন ব্যক্তি। করোনায় মৃত্যুর কারণে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্য করতে অস্বীকারের ঘটনা ঘটে ৫৮টি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয় ১২ জনকে, পরিবার ছাড়া হন ৪৫ জন এবং চিকিৎসা পেশাজীবীসংক্রান্ত হয়রানির ১৯টি ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া হয়রানি ও অপমানের শিকার হন ১৩ জন এবং আত্মহত্যা করেন দুজন।

দেশে করোনাভাইরাসের কারণে ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৩৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৫৩ জন আহত ও ১৮ জন নিহত হয়। সর্বশেষ জুন মাসে ১৬টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৯২ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাকালে ত্রাণ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির জন্য ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১০৭ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে ত্রাণ আত্মসাৎ, মানহীন গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি এবং করোনাভাইরাসসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত ৫৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৫ জনকে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ৮৫টি ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে আর সবচেয়ে কম ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগ থেকে। করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্ক বিকৃতিসংক্রান্ত ১৩৩টি ঘটনা ঘটেছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া কিংবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আত্মহত্যা করা, করোনাআক্রান্ত এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়া, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

করোনা মহামারির প্রতিবন্ধকতা ভেঙে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসার প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ১৯৫১টি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এ প্রবণতা ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে করোনার সময়ে বিভিন্ন জেলায় ২১২টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী ও খাদ্য সহায়তার দাবিতে ২৪ শতাংশ, লকডাউনের নিয়মের প্রতিবাদে ও বাড়িভাড়া-টিউশন ফি কমানোর দাবিতে প্রতিবাদ-আন্দোলন বেড়ে ১৩ শতাংশ হয়েছে। কর্মস্থল থেকে ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ ও বেতন কমানোর বিরুদ্ধে ১২ শতাংশ, পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর দাবিতে ১০ শতাংশ এবং অনিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণের প্রতিবাদে ৫ শতাংশ এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমানোর দাবিতে ৪ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা