kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ভাষাসংগ্রামী সাঈদ হায়দার চলে গেলেন

করোনামুক্ত হয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাষাসংগ্রামী সাঈদ হায়দার চলে গেলেন

ডা. সাঈদ হায়দার

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী ও প্রথম শহীদ মিনারের অন্যতম নকশাকার ডা. সাঈদ হায়দার আর নেই। গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। করোনাভাইরাসমুক্ত হলেও তিনি নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ডা. সাঈদ হায়দার গত জুন মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে ওঠার পর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। করোনার নমুনার সর্বশেষ দুটি পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। 

সাঈদ হায়দারের বড় ছেলে বারডেম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক আশরাফ হায়দার জানান, কিছুদিন আগে পরিবারের সবাই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন তাঁর বাবাও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর করোনামুক্ত হয়ে ওঠেন। কিন্তু শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। এক সপ্তাহ পর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে আর সুস্থ হতে পারেননি। গতকাল বাদ মাগরিব উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

সাঈদ হায়দার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্ররা শহীদদের স্মরণে ইট দিয়ে শহীদ মিনার গড়ে তোলেন, যার নকশা করেন ভাষাসংগ্রামী বদরুল আলম। আর তাঁকে সহযোগিতা করেন সাঈদ হায়দার। এই ‘স্মৃতিস্তম্ভ’টি ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে গড়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

সাঈদ হায়দারের জন্ম ১৯২৫ সালে পাবনা শহরে। তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৫৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা নেন। তিনি ইপিআইডিসির চিফ মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন। চাকরির ধারাবাহিকতায় বিটিএমসি থেকে ১৯৮৩ সালে অবসর নেন।

তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখিও করেছেন। তাঁর প্রথম বই ‘রোগ নিরাময় সুস্থ জীবন’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের পটভূমিতে তাঁর লেখা ‘লোকসমাজ চিকিৎসাবিজ্ঞান’ বাংলা একাডেমি তিনটি খণ্ডে প্রকাশ করেছে। তাঁর আত্মজৈবনিক স্মৃতিকথা ‘পিছু ফিরে দেখা’ কালপ্রবাহের এক বাস্তব আলেখ্য।

বাঙালির ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ডা. সাঈদ হায়দারকে ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা