kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

দেশে ষাটোর্ধ্ব মৃত্যু কমে বেড়েছে নিম্নবয়সীদের

► আক্রান্তদেরও ৯৩ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের কম
► কর্মজীবীদের ঘরের বাইরে আরো সতর্কতার পরামর্শ
► ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৩ শনাক্ত ৩৫৩৩, সুস্থ ১৭৯৬

তৌফিক মারুফ   

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে ষাটোর্ধ্ব মৃত্যু কমে বেড়েছে নিম্নবয়সীদের

করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু বিশ্বব্যাপীই কমে আসছে। বাংলাদেশেও কমছে একই ধারায়। এর মধ্যে দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে বয়স্কদের মৃত্যু বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। উল্টো বাড়ছে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মৃত্যু। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মারা যাওয়া দুই হাজার ৪৫৭ জনের মধ্যে ৫৬ শতাংশ বা এক হাজার ৩৮০ জনের বয়সই ৬০ বছরের নিচে। অথচ গত মে মাসের আগে ছিল উল্টো চিত্র। কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ৬০ বছরের কম বয়সী। তাঁদের মধ্যে আবার ৫৫ শতাংশেরই বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। অন্যদিকে মারা গেছেন ১০ বছর বয়স পর্যন্ত ১৬ জন (০.৬৫%), ১১-২০ বছরের ২৮ জন (১.১৪%), ২১-৩০ বছরের ৭৬ জন (৩.০৯%), ৩১-৪০ বছরের ১৭৪ জন (৭.০৮%), ৪১-৫০ বছরের ৩৫৬ জন (১৪.৪৯%) ও ৫১-৬০ বছরের ৭৩০ জন (২৯.৮৩%) এবং ষাটোর্ধ্ব এক হাজার ৭৭ জন (৪৩.৮৩%)। এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৭৮.৯৬ ও নারী ২১.০৪ শতাংশ।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ধরা হয়েছে ৬০-৬৫ বা ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ধরা হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ্ব। কারণ এখানে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যেই বহুমাত্রিক জটিল রোগ বেশি। সেদিক থেকে হিসাব করলে পঞ্চাশের ওপরে ও নিচে মৃত্যুহার প্রায় সমান। আর ষাটোর্ধ্ব হিসাব ধরলে এর নিচে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যায়। আক্রান্তও বেশি ওই বয়সীরা। এর কারণ হচ্ছে—আমাদের দেশে ৬০ বছরের নিচের বয়সীরাই উপার্জনশীল। তাদের বেশি বাইরে যেতে হয়। তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় পুরুষের মৃত্যুও এর একটি কারণ। তিনি সব বয়সীদেরই সতর্কভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরার পরামর্শ দেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ করোনাবিষয়ক বুলেটিনের তথ্যানুসারে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত যে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের বয়সই ষাটের নিচে। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

বুলেটিনের তথ্যে আরো জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার দুইটি। নতুন শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৫৩৩ জন। মারা গেছেন ৩৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৯৬ জন।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৪০২টি নমুনা। কভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৯৩ হাজার ৫৯০ জন। সুস্থ হয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ২৩ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪৫৭ জনের। এ ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্ত ২৫.২৩, মোট শনাক্ত ১৯.৭৫, মোট সুস্থ ৫৪.২৫ ও মোট মৃত্যুহার ১.২৭ শতাংশ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা