kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

চলাফেরা কমলেও কাজ কমেনি

অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ

কাজী হাফিজ   

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলাফেরা কমলেও কাজ কমেনি

‘করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শারীরিকভাবে চলাফেরা কমে গেছে। দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার কয়েক দিন আগে আমার স্ত্রী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে আটকে গেছেন। থাকছি ঢাকা সেনানিবাসে মেয়ের সেনা কর্মকর্তা স্বামীর বাসায়। দিন-রাত এই বাসায়ই কাটে, কিন্তু কাজ কমেনি। অনলাইনে বিভিন্ন সেমিনারে যুক্ত হওয়া, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের তদারকি করা, পরিচিতদের মধ্যে যারা এক ধরনের গৃহবন্দি অবস্থায় থেকে অবসাদে ভুগছে তাদের কাউন্সেলিং করা—এসব নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি।’

কথাগুলো স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদের। এই করোনাকালে কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন—কালের কণ্ঠ’র এমন প্রশ্নে তিনি জানালেন, স্থানীয় সরকার নিয়ে কথা বলার কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকে তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন, নানা সমস্যার কথা বলেন। জেনেছি ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির কারণে যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁরা অনেকেই পরিস্থিতির শিকার। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ইচ্ছায়ও তাঁদের অনিয়মে জড়াতে হয়েছিল। এই দুর্যোগে ক্ষুধার্ত পশু-পাখির খাবারের সংস্থান এবং কৃষকের সমস্যা নিয়েও লেখালেখি করছেন।

কুমিল্লায় অবস্থিত ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক তোফায়েল বললেন, ‘প্রথমে এ বিষয়ে সন্দিহান ছিলাম। অনলাইনে ক্লাস নিতে গিয়ে নারী শিক্ষকদের কেউ কেউ বিব্রত হয়েছেন এমন ঘটনার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু আমরা ৯৫ শতাংশ সফলতা পেয়েছি। তবে সমস্যা হলো—প্রাক্টিক্যাল ক্লাস নিতে পারছি না। ক্লাস নেওয়ার জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক ফেসবুক পেজ খুলেছেন, প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের জন্য আলাদা ফেসবুক পেজ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে। এগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখছি।’

করোনা দুর্যোগে দেশের কৃষক ও কৃষি খাত প্রসঙ্গে এ শিক্ষাবিদ বলেন, এই খাতে শ্রমিক সংকট চলছে। কৃষি শ্রমিক ক্রমেই ব্যয়বহুল হওয়ায় জমির মালিকরা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তা ছাড়া চাষিদের থেকে জমির মালিকানা ‘ভদ্রলোকদের’ হাতে চলে যাচ্ছে। এসব ভদ্রলোক জমি কেনেন বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে, ফসল ফলানোর জন্য নয়। সরকার এ ক্ষেত্রে জমির ধরন অনুসারে বিশেষ জোন গড়ে ফসল উৎপাদনে পদক্ষেপ নিতে পারে। নইলে ভবিষ্যতে সংকট বাড়বে। কৃষিপণ্য সরবরাহের জন্য এই দুর্যোগে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যেসব পিকআপ ভ্যান পড়ে আছে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

রাজশাহীতে শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় গত ৩ এপ্রিল পাঁচটি ক্ষুধার্ত কুকুর ঢুকে তিন শাবকসহ চারটি হরিণ খেয়ে ফেলার ঘটনা স্মরণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালসহ উচ্ছিষ্টভোগী পশু-পাখির এখন খাদ্য সংকট প্রবল। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর বেশির ভাগ বন্ধ থাকায় উচ্ছিষ্ট খাবারও কমে গেছে। এ অবস্থায় আমরা উচ্ছিষ্ট খাবার ময়লার ঝুড়িতে না ফেলে আলাদা জায়গায় রাখতে পারি। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে।’

করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি সমর্থন করে অধ্যাপক তোফায়েলের মন্তব্য—জীবন ও জীবিকা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে জীবন না বাঁচলে জীবিকা থাকবে না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা